বিজাপুরে এনকাউন্টারে শীর্ষ মাওবাদী নেতা উধম সিং নিহত, উদ্ধার একে-৪৭ ও বিস্ফোরক

রায়পুর/বিজাপুর: ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় মাওবাদী বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার জেলার দক্ষিণাংশে তাররেম থানার অন্তর্গত জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযানে শীর্ষ মাওবাদী নেতা উধম সিংকে নিকেশ করা হয়েছে। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে।

বিজাপুরের পুলিশ সুপার জিতেন্দ্র কুমার যাদব জানান, দক্ষিণ বস্তার ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিটি মেম্বার (ডিভিসিএম) উধম সিং এবং তার সঙ্গে থাকা সশস্ত্র ক্যাডারদের উপস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) বিজাপুর ও কোবরা (কম্যান্ডো ব্যাটালিয়ন ফর রিজল্যুট অ্যাকশন)-এর যৌথ দল ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে গুলি বিনিময় শুরু হয়। ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলে। এনকাউন্টারের পর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে উধম সিংয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা। পুলিশ জানিয়েছে, উধম সিং দক্ষিণ বস্তার ডিভিশনের প্লাটুন নম্বর ৩০-এর ইনচার্জ ছিলেন।

বাসাগুড়া থানার অন্তর্গত কোট্টাগুড়া গ্রামের বাসিন্দা উধম সিং ২০০২-০৩ সালে সিপিআই (মাওবাদী)-তে পার্টি সদস্য হিসেবে যোগ দেন। মূলত ছত্তিশগড়-তেলেঙ্গানা সীমান্ত এলাকায় তিনি সক্রিয় ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তিনি প্রায় তিন বছর ধরে পামেড এরিয়া কমিটিতে কাজ করছিলেন। বিজাপুর জেলার বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট নয়টি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে তাররেম থানার অন্তর্গত গুন্ডাম জঙ্গলে একটি পুলিশ দলের উপর হামলা, ২০২৪ সালে বাসাগুড়া এলাকার পুটকেল-চিপুরাভাট্টি জঙ্গলে পুলিশ-মাওবাদী সংঘর্ষ এবং একই বছরে জিদপল্লি ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় উধম সিংয়ের প্রত্যক্ষ যোগ ছিল।

এনকাউন্টারস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন ও ২৮ রাউন্ড গুলি, কর্ডেক্স তার, একটি ওয়্যারলেস সেট, মোবাইল ফোন, পাউচ, ব্যাকপ্যাক, টিফিন ব্যাগ, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য মাওবাদী সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

এই অভিযানের সাফল্য নিয়ে জেলা সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পি., সিআরপিএফ বিজাপুর সেক্টরের ডিআইজি (অপারেশনস) বি এস নেগি-সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। তাঁরা জানান, বস্তার অঞ্চলে মাওবাদী নেটওয়ার্ক ভাঙতে ধারাবাহিক ও জোরদার অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সাফল্য এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে বিজাপুর জেলায় বিভিন্ন অভিযানে মোট ১৬৩ জন মাওবাদী নিহত হয়। ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত ১১ জন মাওবাদী নিকেশ হয়েছে। জানুয়ারি ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৩২ জন মাওবাদীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি ১,১৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৮৮৮ জন আত্মসমর্পণ করে পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত চলতি ইংরেজি বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে বামপন্থী উগ্রবাদ নির্মূলের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে এবং সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply