নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি : ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করতে গিয়ে রবিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন গুজরাটের সুরাট ও পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনির মধ্যে একটি ডেডিকেটেড পণ্যবাহী করিডর গঠনের প্রস্তাব দেন।
এই নতুন পণ্যবাহী করিডরের মাধ্যমে গুজরাট ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে। পাশাপাশি দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্য দিয়ে এই করিডর অতিক্রম করবে, যা লজিস্টিক্স ও পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২০টি নতুন জাতীয় জলপথ চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এর ফলে পরিবেশবান্ধব উপায়ে পণ্য পরিবহণ আরও উৎসাহিত হবে।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই প্রেক্ষিতে সুরাট-ডানকুনি পণ্যবাহী করিডরকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুজরাটের শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সংযোগ আরও মজবুত হবে।
বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে থাকা পশ্চিমবঙ্গে বড় প্রকল্প এনে দ্রুত আর্থিক বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই কেন্দ্রের লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়াও বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী চারটি রাজ্যে ‘রেয়ার আর্থ করিডর’ গঠনের ঘোষণাও করেন। তামিলনাড়ু, কেরালা, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে খনিজ সম্পদভিত্তিক বিশেষ করিডর তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।
নির্মলা সীতারামন বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। এবার ওড়িশা, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুকে সহায়তা করে খনন, প্রক্রিয়াকরণ, গবেষণা ও উৎপাদনের জন্য বিশেষ করিডর গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, রেয়ার আর্থ উপাদানগুলি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, যুদ্ধবিমান এবং আধুনিক প্রযুক্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে এই ক্ষেত্রে চিনের প্রায় একচেটিয়া দখল রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ খনন এবং ৯০ শতাংশের বেশি প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা চিনের হাতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘোষণার মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি নির্ভরতা, বিশেষত চিনের উপর নির্ভরতা কমানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার।

