Birajit

কৈলাসহরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, শাসক দলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তাল শহর: কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহার উদ্বেগ

কৈলাসহর, ২৫ জানুয়ারি : কৈলাসহরের আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং সরস্বতী পূজার দিন শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস বিধায়ক ও পরিষদীয় দলনেতা বিরজিত সিনহা। রবিবার দুপুরে জেলা কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং শাসক দলের একাংশকে দায়ী করেন।

এছাড়াও, সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা কংগ্রেস সভাপতি মো: বদরুজ্জামান ও কংগ্রেস নেতা রুদ্রেন্দু ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

বিরজিত সিনহা অভিযোগ করেন, ঊনকোটি টুরিস্ট লজ সংলগ্ন স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি পরিত্যক্ত সরকারি কোয়ার্টার বেআইনিভাবে দখল করে শাসক দলের একাংশ সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাচ্ছিল। তাঁর দাবি, পৌরসভার চেয়ারম্যান বেআইনিভাবে ওই ঘর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন এবং যুব মোর্চার জেলা সভাপতি সহ কর্মীরা সেখানে ঘাঁটি গেড়ে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো।

তিনি জানান, দেড় মাস আগে এসপি ও এসডিএম-কে গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি দেওয়া হলেও প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলস্বরূপ, ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পূজার দিন শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে, যা শহরকে রণক্ষেত্রে পরিণত করে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

ঘটনার পরের দিন, ২৪ জানুয়ারি পুলিশ ওই ঘর থেকে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করে, যার মধ্যে ছিল দা, বল্লম সহ অন্যান্য অস্ত্র।

কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহা, বিজেপি-র কৈলাসহর মন্ডল সভাপতি প্রীতম ঘোষ-এর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “মন্ডল সভাপতি প্রীতম ঘোষ ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংঘর্ষে লিপ্ত উভয় পক্ষই শাসক দলের লোক ছিল এবং এর মধ্যে কোনো সাম্প্রদায়িক বিষয় ছিল না।

এছাড়া, বিরজিত সিনহা দাবি করেন, অবিলম্বে মন্ডল সভাপতি প্রীতম ঘোষকে গ্রেফতার করতে হবে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বিরজিত সিনহা বলেন, “রাজ্যে কোনও কিছু ঘটলেই মুখ্যমন্ত্রী সবসময় কড়া ব্যবস্থার কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো অ্যাকশন দেখা যায় না।” তিনি দাবি করেন, অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে এবং জেলা প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, “অন্যথায় আইন-শৃঙ্খলার আরও অবনতি ঘটবে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার পর চারটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। ২৩ জানুয়ারি, কৈলাসহর মন্ডল সভাপতি প্রীতম ঘোষ কৈলাসহর থানায় মামলা করেন, অপরদিকে ২৪ জানুয়ারি, জেলা যুব মোর্চার সভাপতি অরুপ ধর কৈলাসহর মন্ডল সভাপতি প্রীতম ঘোষ, পুর পরিষদের ভাইস চেয়ারপার্সন নিতীশ দে সহ পাঁচ জনের নামে মামলা করেন।

একইদিন রাতে সুলতান আহমেদ থানায় আরেকটি মামলা করেন এবং পুলিশ সমন্বিতভাবে একটি মামলা নেয়, যেখানে মন্ডল সভাপতি প্রীতম ঘোষসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং টিএসআর বাহিনী অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। গোটা কৈলাসহর জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। সাংবাদিক সম্মেলনের পর যুব কংগ্রেস কৈলাসহর থানার ওসি-কে ডেপুটেশন প্রদান করে। তারা মন্ডল সভাপতি প্রীতম ঘোষ সহ জড়িত অন্যান্যদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে।

এখনও পর্যন্ত গোটা শহরে উত্তেজনা অব্যাহত, এবং কংগ্রেস-এর পক্ষ থেকে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে।

Leave a Reply