আগরতলা, ২৪ জানুয়ারি : ত্রিপুরার বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে সৌরশক্তির মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চালু হওয়া ‘পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা’ এখন পর্যন্ত রাজ্যে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমা অতিক্রম করেছে। এটি রাজ্যের বিদ্যুৎ খাতে নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড জানিয়েছে, এই যোজনার মাধ্যমে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা তাদের বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবেন। এতে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ বিল শূন্যে নামবে না, অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে গ্রাহকের মাসিক আয়ের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি বাড়িকে ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত করা। এতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে, বিদ্যুৎ বিলের বোঝা কমবে এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হবে।
রাজ্যে মানুষের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। ইতিমধ্যেই ১৭,৬০১ জন গ্রাহক এই প্রকল্পে নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ২,০৬১টি বাড়িতে সোলার প্যানেল ইনস্টলেশন সম্পন্ন হয়েছে এবং ১,৭৪৬ জন গ্রাহক সরকারি ভর্তুকির অর্থ পেয়েছেন। সরকারি ভর্তুকি সর্বাধিক ৮৫,৮০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মাত্র ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সোলার প্ল্যান্ট মাসে প্রায় ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। এটি সাধারণ পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে নিয়মিত আয়ও করা সম্ভব।
বিদ্যুৎ নিগমের লক্ষ্য আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছে দেওয়া। এই লক্ষ্য পূরণ হলে ত্রিপুরার বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড সকল বিদ্যুৎ গ্রাহককে আহ্বান জানিয়েছে—দেরি না করে সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা’-তে নিবন্ধন করুন অথবা নিগমের কার্যালয়ে গিয়ে নিজের নাম নথিভুক্ত করুন। নিজের ঘরকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানান, বিদ্যুৎ বিল শূন্য করুন এবং সূর্যালোক থেকেই আয়ের পথ তৈরি করুন।

