নয়াদিল্লি, ২৪ জানুয়ারি: জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে শনিবার দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কন্যারা শুধু দায়িত্ব নয়, তারা শক্তির উৎস এবং জাতি গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি—আজ নারীরাই ভারতের অগ্রগতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় অমিত শাহ বলেন, “জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের শুভেচ্ছা। এই দিনটি প্রতীক যে কন্যারা কেবল আমাদের দায়িত্ব নয়, তারা অপরিসীম শক্তি। রানি লক্ষ্মীবাই, রানি ভেলু নাচিয়ার, মুলা গাভারু ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের গৌরবময় উদাহরণ প্রতিটি ভারতীয়ের হৃদয় গর্ব ও অনুপ্রেরণায় ভরিয়ে দেয়।”
ভারতের উন্নয়নের কাহিনিতে নারীর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “মোদি সরকারের ‘নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন’ মন্ত্র নরী শক্তিকে অগ্রগতির অগ্রভাগে নিয়ে এসেছে, এবং আজ নারীরাই দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।”
প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি ভারতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়, যার লক্ষ্য কন্যাশিশুদের অধিকার, শিক্ষা ও কল্যাণের গুরুত্ব তুলে ধরা। ২০০৮ সালে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক এই উদ্যোগ শুরু করে, যাতে কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়ন এবং লিঙ্গবৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো যায়।
এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো কন্যাশিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সমান সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং লিঙ্গবৈষম্য ও অসাম্যের মতো চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। একই সঙ্গে সমাজে কন্যাদের সমান মর্যাদায় মূল্যায়ন ও সম্মান করার বার্তাও দেওয়া হয়।
এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নারী ভ্রূণহত্যা, কমে যাওয়া লিঙ্গ অনুপাত এবং বৈষম্যের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলা করে সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন আনা, যাতে কন্যাশিশুদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি হয়।
বছরের পর বছর সরকার কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়ন ও তাদের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’, ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’ এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় কন্যাদের জন্য জাতীয় প্রণোদনা প্রকল্প।
সরকার কন্যাশিশু সুরক্ষায় আইনি কাঠামোও জোরদার করেছে। শিশু বিবাহ নিষেধ আইন, ২০০৬ শিশু বিবাহ রোধে কাজ করছে; পকসো আইন, ২০১২ শিশুদের যৌন নির্যাতন মোকাবিলায় প্রযোজ্য; এবং জুভেনাইল জাস্টিস (কেয়ার অ্যান্ড প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন) আইন, ২০১৫ প্রয়োজনীয় যত্ন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করে।
‘মিশন বাত্সল্য’ শিশু উন্নয়ন ও সুরক্ষায় কাজ করে, যার অধীনে চাইল্ড হেল্পলাইন এবং ট্র্যাক চাইল্ড পোর্টালের মতো পরিষেবা রয়েছে—যা নিখোঁজ শিশুদের শনাক্তকরণে সহায়তা করে।
কোভিড-১৯ মহামারিতে অনাথ হওয়া শিশুদের সহায়তায় ‘পিএম কেয়ার্স ফর চিলড্রেন’ প্রকল্প চালু হয়েছে। এছাড়া নিমহানস (NIMHANS) এবং ই-সম্পর্ক (E-SAMPARK) কর্মসূচির মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় কন্যাশিশু দিবস কন্যাদের ক্ষমতায়ন ও সমতার গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ধারাবাহিক উদ্যোগ, নীতি ও সচেতনতা অভিযানের মাধ্যমে লিঙ্গবৈষম্য কমানো এবং দেশের সর্বত্র কন্যাশিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

