ইরানে গণবিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে, দাবি রিপোর্টে

তেহরান, ১৮ জানুয়ারি: ইরানে গত কয়েক মাসে চলা গণবিক্ষোভের মধ্যে অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে, যা সরকারিভাবে জানানো ১ হাজারের তুলনায় বহুগুণ বেশি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভ দমন করতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী নির্যাতন ও আক্রমণের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ইরানের জনগণের উপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানে ৩ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। আমির পারাস্তা নামের এক ইরানি চিকিৎসক জানান, প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভ দমাতে রবার বুলেট ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু খামেনেইয়ের নির্দেশে এখন ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করছে। তাতে শটগান, রাইফেল ও মেশিন গান ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে বহু মানুষের মাথা, বুক ও কাঁধে গুলি লাগে।
আমির পারাস্তা, যিনি একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, জানিয়েছেন যে, গুলির আঘাতে প্রায় ৭০০ থেকে ১,000 মানুষ তাদের চোখ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটা শুধু আহত হওয়ার বিষয় নয়, পুরো সমাজের উপর একটি ভয়াবহ আঘাত এসেছে। ” তিনি আরও জানান, যে সকল রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই রক্তের অভাবে মারা যাচ্ছেন।
ইরানে এই হত্যাযজ্ঞের মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে উঠেছে, এবং একাধিক দাবি ওঠেছে যে, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও কট্টরপন্থী ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ বিদ্রোহ করছে। নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনকে দমন করতে খামেনেই প্রশাসন নিষ্ঠুর দমননীতি গ্রহণ করেছে, যার ফলস্বরূপ অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে, দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক তার ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে আমির পারাস্তা সহ অন্যরা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।
মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ সম্প্রতি দাবি করেছে, ইরানে বিক্ষোভের মধ্যে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। তবে এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সরকারির দেয়া মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার হলেও আসলে সেটি ১৬ হাজারের বেশি। মৃতদের মধ্যে শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলারাও রয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সরকার ইরানের এই দমননীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।