নবায়নযোগ্য শক্তিতে বড়সড় লক্ষ্য অসমের, পাঁচ বছরে ৩,৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

গুয়াহাটি, ১৬ জানুয়ারি : নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে বড়সড় অগ্রগতির লক্ষ্য নিয়ে আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ৩,৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে অসম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য রাজ্যের পরিষ্কার, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবস্থার প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে অসমের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সৌরশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এবং এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তিনি জানান, এই উদ্যোগ ভারতের জাতীয় জলবায়ু লক্ষ্য পূরণ এবং স্বল্প-কার্বন অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে অসমের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কথায়, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে রাজ্য সরকার বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ পার্ক স্থাপন, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা (রুফটপ সোলার) এবং গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় বিকেন্দ্রীভূত সৌর প্রকল্প।
তিনি বলেন, অসমের ভৌগোলিক সম্ভাবনা এবং উন্নত নীতিগত সহায়তা রাজ্যকে দ্রুত সৌরশক্তির পরিসর বাড়ানোর জন্য অনুকূল অবস্থানে রেখেছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি, দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং শক্তিশালী বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় মাপের বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি সংস্থা, বেসরকারি ডেভেলপার এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে যুক্ত করে বিভিন্ন জেলায় দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে রুফটপ সোলার ব্যবস্থার প্রসার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এর ফলে সরকারি পরিকাঠামোর বিদ্যুৎ খরচ কমবে এবং তৃণমূল স্তরে পরিচ্ছন্ন শক্তির কার্যকারিতা প্রমাণিত হবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতে, সৌরশক্তির সম্প্রসারণে স্থানীয় যুবক, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে—বিশেষ করে ইনস্টলেশন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা ক্ষেত্রে। তিনি জানান, নবায়নযোগ্য শক্তির এই উদ্যোগ অসমের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যকে আরও মজবুত করবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সৌরশক্তির পাশাপাশি অন্যান্য পরিচ্ছন্ন শক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে হাইব্রিড নবায়নযোগ্য মডেল চালুর বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। পাশাপাশি, অধিক নবায়নযোগ্য শক্তি সংযুক্তির জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অসমের সৌর মিশন শুধু মেগাওয়াটের হিসাব নয়, বরং একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত শক্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য।” তিনি আরও যোগ করেন, “২০৩০ সালের মধ্যে ৩,৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অসম উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান নবায়নযোগ্য শক্তির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে বদ্ধপরিকর। এই রূপান্তরের সুফল বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—উভয় প্রজন্মই পাবে।”