আগরতলা, ১৫ জানুয়ারি: ফের এক ডেলিভারি বয়ের কাজে নিযুক্ত যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে কদমতলা ব্লক এলাকায়। যদিও এবারের ঘটনাটি ঘটেছে বহিঃরাজ্য ব্যাঙ্গালোরে, তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৃত যুবকের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্না ও শোকের আবহে ভেঙে পড়ে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা।
জানা যায় মৃত যুবকের নাম শাহাজান আলম (২৩)। তিনি কদমতলা থানাধীন ইছাইলালছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ জলাইবাড়ি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মৃতের পিতা আব্দুল গনি জানান, প্রায় সাত বছর আগে কাঠাঁলতলী বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শামীম আহমেদের কন্যার সঙ্গে বাঘন স্কুলে পড়াশোনার সময় শাহাজানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পড়াশোনা শেষে ওই তরুণীকে ব্যাঙ্গালোরে পাঠানো হলে, অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়েটি ও তার পরিবারের চাপে শাহাজানকেও সেখানে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
ব্যাঙ্গালোরে গিয়ে লেখাপড়া শেষ করার পর শাহাজান একটি বেসরকারি সংস্থায় ডেলিভারি বয়ের কাজ শুরু করেন। অভিযোগ, তিনি যে অর্থ উপার্জন করতেন, তার বড় অংশই ওই তরুণীর পড়াশোনার খরচ হিসেবে ব্যয় করতেন। বিষয়টি উভয় পরিবারের কাছেই জানা ছিল বলে দাবি মৃতের পরিবারের। এমনকি প্রয়োজনের সময় ছেলের পরিবারকেও অতিরিক্ত টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
দীর্ঘ সাত বছর এভাবে চলার পর শাহাজান ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে দুই পরিবারের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। মৃতের পিতা আব্দুল গনির অভিযোগ, বিয়ের কথা উঠতেই তরুণীর পরিবার সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং তরুণীকে ব্যাঙ্গালোর থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর শাহাজান যোগাযোগের চেষ্টা করলে তরুণীর মা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিয়েতে স্পষ্ট অনিচ্ছা প্রকাশ করে।
এই ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শাহাজান। পরিবারের দাবি, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন এবং সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। এরই মধ্যে গত ১৩ জানুয়ারি ব্যাঙ্গালোরে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য মিলছে না।
পরে তার সঙ্গে কর্মরত সহকর্মীরাই বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান এবং ব্যাঙ্গালোরের স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। বাড়িতে দেহ পৌঁছানোর পর থেকেই মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মৃতের পিতা ও পরিবারের সদস্যরা সরাসরি তরুণীর পরিবারকে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে প্রতিবেশী সমাজসেবী বদরুল হক-সহ এলাকার বিশিষ্টজনেরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আবেদন জানান।
সবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধর্মীয় রীতি মেনে শাহাজান আলমের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। তবে তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় শোকের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভও ক্রমশ বাড়ছে।

