নয়াদিল্লি, ১৫ জানুয়ারি: রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক এবং তার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়িতে সাম্প্রতিক তল্লাশিকে ঘিরে বড়সড় স্বস্তি পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দায়ের করা ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সমস্ত এফআইআর স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ মন্তব্য করে জানায়, এই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তে রাজ্য সংস্থার হস্তক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশের কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নোটিস জারি করেছে।
বিচারপতি মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ উত্তরদাতাদের দুই সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি।
অন্তর্বর্তী নির্দেশে শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, তল্লাশি চালানো সংশ্লিষ্ট সমস্ত স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য রেকর্ডিং ডিভাইস, এমনকি আশপাশের এলাকার ভিডিও ফুটেজও পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, প্রাথমিকভাবে এই মামলায় ইডির তদন্তে হস্তক্ষেপ এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছে। আদালত সতর্ক করে বলে, “এই ধরনের বিষয় অনির্ধারিত অবস্থায় থাকলে এক বা একাধিক রাজ্যে ‘আইনহীনতার’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”
জরুরি আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে ইডি দাবি করেছে, গত সপ্তাহে একযোগে আই-প্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালানোর সময় তাদের আধিকারিকরা বাধার সম্মুখীন হন এবং আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তদন্তের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়াও, একটি নতুন আবেদনে ইডি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা তদন্তে বাধা দেন এবং প্রমাণ লোপাটে সহায়তা করেন।
এই মামলাকে ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

