জয়পুর, ১৫ জানুয়ারি: দ্রুত পরিবর্তনশীল যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনা বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানালেন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। বৃহস্পতিবার জয়পুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দেশবাসীকে এই আশ্বাস দেন।
ইন্ডিয়ান আর্মি ডে ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সেনাপ্রধান বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে একটি বড় শিক্ষা হল—যুদ্ধের সময়কাল আগে থেকে নির্ধারণ করা যায় না। কোনও সংঘর্ষ চার দিনের মধ্যেও শেষ হতে পারে, যেমন অপারেশন সিন্দুর, আবার তা চার বছরও চলতে পারে। এর পরিণতি যুদ্ধক্ষেত্রেই নির্ধারিত হয়।
যুদ্ধের চরিত্র বদলে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা কখনওই সৈনিকের বিকল্প নয়। প্রযুক্তি দক্ষতা বাড়ায়, সৈনিককে প্রতিস্থাপন করে না। একই সঙ্গে ছোট ও চটপটে ইউনিটগুলি তাদের গতি ও নমনীয়তার কারণে আরও কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে, তিনি বলেন।
সেনাপ্রধান জানান, ঘাটাক ইউনিট ও স্পেশাল ফোর্সের মধ্যে অপারেশনাল ব্যবধান কমাতে নতুন করে ভৈরব ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন সংগঠন ও কাঠামো তৈরি হচ্ছে। সিগন্যালস ও এয়ার ডিফেন্স ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে। যুদ্ধক্ষেত্র দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই সেনাকেও আরও দ্রুত এগোতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মধ্যেই অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদন ও মেরামতের সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃত আত্মনির্ভরতার ভিত্তি হিসেবে গবেষণা ও উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তি আমদানি করে দেশে সংযোজন করলেই আত্মনির্ভরতা আসবে না। গবেষণা ও উন্নয়নে জোর না দিলে আমরা সম্পূর্ণ স্বনির্ভর হতে পারব না।
তিনি আরও জানান, ডিআরডিও ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির পথ নিয়ে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা।
প্রথমবারের মতো জয়পুরে আর্মি ডে প্যারেড আয়োজন প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, রাজস্থান ভারতের গভীর সামরিক ঐতিহ্যের প্রতীক। এই রাজ্য থেকেই শৈতান সিং ভাটি ও আবদুল হামিদের মতো বীরযোদ্ধারা জন্মেছেন, যাঁরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, তিনি বলেন।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, বিকানেরের খাজুয়ালা, যেখানে আমি কমিশন পেয়েছিলাম, আমার হৃদয়ের খুব কাছের। ঐতিহ্য ও পরিবর্তনের সাক্ষী জয়পুর, তাই এই শহরকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ পশ্চিম কমান্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই উদযাপনের মাধ্যমে সেনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হচ্ছে। সন্ধ্যায় শৌর্য সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে সেনার বীরত্ব প্রদর্শিত হবে বলেও তিনি জানান।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে সেনাপ্রধান বলেন, ভারতীয় সেনা যে কোনও ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন। ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য আমরা প্রস্তুত এবং পরিবর্তিত চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের আধুনিক করে চলব।
শেষে তিনি বলেন, অপারেশন সিন্দুর একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে—এটি একটি পরিণত, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল ভারতের প্রতিফলন।

