শিক্ষক–কর্মচারী নিয়োগ ও স্থির বেতন নীতিকে অসাংবিধানিক আখ্যা, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকরের দাবিতে প্রদেশ কংগ্রেস

আগরতলা, ১৫ জানুয়ারি: শিক্ষক–কর্মচারীদের নিয়োগ ও বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের প্রাক্তন ও বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল প্রদেশ কংগ্রেস। আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী দাবি করেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্থায়ী বেতন ও চাকরির অধিকার নিশ্চিত না করে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলে রেখেছে।

সংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ জানুয়ারি রাজ্যের মাননীয় উচ্চ আদালত পূর্বতন সরকার ও বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষক–কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত যে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ২০০১ ও ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের গৃহীত নীতির ফলে স্থির বেতন ও পাঁচ বছর মেয়াদি চাকরির যে ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক ও শ্রমিক–স্বার্থবিরোধী।

তিনি আরো বলেন, যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে স্থির বেতনে কাজ করছেন, তাঁদের নিয়মিত বেতনক্রম, বকেয়া ডিএ এবং অন্যান্য আর্থিক সুযোগ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই সকল কর্মীদের অধিকার সুরক্ষিত করা সরকারের দায়িত্ব ছিল।

প্রদেশ কংগ্রেস আরও দাবি করেছে, স্থায়ী নিয়োগ না করে চুক্তিভিত্তিক ও স্থির বেতনের মাধ্যমে চাকরি প্রদান করার ফলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়। কংগ্রেসের বক্তব্য, কেন্দ্রের অনুমোদনের অজুহাতে রাজ্য সরকার নতুন পদ সৃষ্টি ও স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করেনি। অথচ অতীতে একই সরকার কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ব্যবহার করে অন্যান্য খাতে ব্যয় করতে পিছপা হয়নি।
প্রদেশ কংগ্রেস অবিলম্বে শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগ, পূর্ণ বেতনক্রম চালু, বকেয়া ডিএ প্রদান এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, এই দাবিগুলি মানা না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথেও নামার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply