ইডি অভিযানে হস্তক্ষেপের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক

নয়াদিল্লি, ১৫ জানুয়ারি : সুপ্রিম কোর্টে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) অভিযোগ করেছে যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ধারাবাহিক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে তিনি বিভিন্ন সময়ে সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনানুগ কার্যক্রম চলাকালীন সংশ্লিষ্ট স্থানে ঢুকে পড়েছেন।

কলকাতায় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক–এর দপ্তরে গত সপ্তাহে ইডির অভিযানে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। আই-প্যাক তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) হয়ে রাজনৈতিক পরামর্শের কাজ করে।

ইডির আবেদনে ডিপার্টমেন্ট অব পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা এবং দক্ষিণ কলকাতার ডিসিপি প্রিয়ব্রত রায়।

ইডির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ও অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু আদালতে জানান, এটি একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ধারা নির্দেশ করছে। অতীতেও দেখা গেছে, যখনই কোনও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ তাদের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে, মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট স্থানে ঢুকে পড়েছেন।

সলিসিটর জেনারেল আরও বলেন, ডিরেক্টর ও কমিশনার তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। পুলিশ আধিকারিকরা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ধর্নায় বসেছিলেন। সিবিআই-এর যুগ্ম পরিচালকের বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল, পাথরও ছোড়া হয়।

এদিকে, আই-প্যাক মামলার শুনানিকালে গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তারও তীব্র নিন্দা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিন আদালতকক্ষে ব্যাপক হট্টগোলের জেরে বিচারক শুনানি মুলতুবি রাখতে বাধ্য হন এবং বলেন, অত্যন্ত বড় ধরনের অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

সলিসিটর জেনারেল মেহতা সুপ্রিম কোর্টে বলেন, শুনানির সময় বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও অন্যান্য মানুষ আদালতে ঢুকে পড়েন। গণতন্ত্রের জায়গায় যখন জনতার শাসন কায়েম হয়, তখন এমনটাই ঘটে।

এর জবাবে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে, কলকাতা হাইকোর্টে যা ঘটেছে, তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে সওয়াল করে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও রকম বাধা সৃষ্টি করেননি। তিনি বলেন, ইডি অভিযানের সময় আই-প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের একটি ল্যাপটপ ও তাঁর ব্যক্তিগত আইফোন নেওয়া হয়েছিল।

কপিল সিবালের বক্তব্য,দুপুর ১২টা ০৫ মিনিট পর্যন্ত কোনও বাজেয়াপ্তকরণ হয়নি। প্রতীক জৈনের ল্যাপটপে নির্বাচনের সংক্রান্ত তথ্য ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুধু সেই ল্যাপটপ এবং ব্যক্তিগত আইফোন নিয়ে যান। এ ছাড়া আর কিছু নয়। কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। ইডির নথিতেই তা লেখা রয়েছে।

তিনি অভিযানের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এই অভিযান? কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় শেষ বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ। তার পর এতদিন ইডি কী করছিল? নির্বাচনের মাঝখানে হঠাৎ এত তৎপরতা কেন? আই-প্যাকের কাছে বিপুল পরিমাণ দলীয় তথ্য রয়েছে, তা তারা জানত। সেই তথ্য হাতিয়ে নিলে আমরা কীভাবে নির্বাচন লড়ব? চেয়ারম্যানের সেখানে যাওয়ার অধিকার ছিল। ভিডিও দেখালে সব মিথ্যা প্রমাণ হয়ে যাবে। আমরাও অত্যন্ত বিচলিত।

Leave a Reply