লখনউ, ১১ জানুয়ারি : তিন দফা সময়সীমা বাড়ানোর পর অবশেষে প্রকাশিত হল উত্তরপ্রদেশের এসআইআর পর্বের প্রথম ধাপের খসড়া ভোটার তালিকা। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের নাম, যা নিয়ে অস্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও বাংলায় এক কোটি ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও, সেই তুলনায় উত্তরপ্রদেশে ৫ গুণ বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
এরপরই উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষত সামনে থাকা বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী সহ একাধিক শীর্ষ বিজেপি নেতা একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে রাজ্যের সাংসদ ও বিধায়করাও অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নজর দেওয়া হচ্ছে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও।
বৈঠকের পরে বিজেপির মণ্ডল স্তরের নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রত্যেক ভোটারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা হয়। যারা খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের ফর্ম-৬ দিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে। জেলা সভাপতি, বিধায়ক, সাংসদদেরও এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।
লখনউতে প্রায় ১২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা খসড়া তালিকার ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়া। গাজিয়াবাদে ৫ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ গেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতেও ১৮.১৮ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। একইভাবে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিধানসভা কেন্দ্র গোরক্ষপুরেও ১৭.৬১ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
এভাবে ভোটারদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিজেপি নেতৃত্ব নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে চিন্তিত। যোগী প্রশাসন চাইছে, বাদ পড়া নামগুলো যাতে ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়, যাতে নির্বাচনে তাদের সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো যায়।

