নয়াদিল্লি, ১০ জানুয়ারি: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা অব্যাহত। বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলায় জয় মহাপাত্র নামে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও বিষ প্রয়োগ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি বিষ খাওয়ান। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনও তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কয়েক দিন আগেই বাংলাদেশে আরেক হিন্দু যুবকের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নওগাঁ জেলার ভান্ডারপুর গ্রামের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সি মিঠুন সরকার চুরির সন্দেহে একদল লোকের তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দেন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ তাঁর দেহ উদ্ধার করে।
সম্প্রতি প্রতিবেশী এই দেশে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপর হিংসাত্মক ঘটনার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথম সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ঘটনাগুলি।
এদিকে, বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশ পুলিশ ময়মনসিংহ জেলায় হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম ইয়াসিন আরাফাত। তিনি পেশায় প্রাক্তন শিক্ষক এবং এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
উল্লেখ্য, ২৭ বছর বয়সি গার্মেন্টস কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে গত ১৮ ডিসেম্বর ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হত্যা করা হয়। অভিযোগ, প্রথমে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁকে কাজ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে। এরপর কর্মস্থল থেকে টেনে বের করে উত্তেজিত স্থানীয় জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতা তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করে, পরে দেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই হামলায় দীপুর কয়েকজন সহকর্মীও অংশ নিয়েছিল।
বাংলাদেশে একের পর এক এই ধরনের ঘটনায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

