নয়াদিল্লি, ১০ জানুয়ারি: ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, আগামী দু’দিন দেশের একাধিক রাজ্যে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও বিহারে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং উত্তর অভ্যন্তরীণ কর্নাটকেও শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আইএমডি জানিয়েছে, আগামী সাত দিন উত্তর-পশ্চিম ভারতের সমভূমি, পূর্ব ভারত এবং গুজরাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে মধ্য ভারত ও মহারাষ্ট্র অঞ্চলে আগামী ২৪ ঘণ্টা তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও পরবর্তী চার দিনে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। উত্তর-পূর্ব ভারতেও একই ধরনের পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আগামী দু’থেকে তিন দিন পাঞ্জাব, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিম রাজস্থানে ঘন থেকে অতি ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরাতেও আগামী চার দিন সকালের দিকে ঘন কুয়াশা দেখা যেতে পারে। রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও বিহারে এই কুয়াশার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।
দক্ষিণ ভারতে বৃষ্টির পূর্বাভাসও দিয়েছে আইএমডি। ১০ জানুয়ারি তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কারাইকালে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১১ জানুয়ারিতেও একই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং এটি উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এর জেরে তামিলনাড়ু উপকূলে দমকা হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আইএমডির মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর, মান্নার উপসাগর ও তামিলনাড়ু–পুদুচেরি উপকূলে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সমুদ্র পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
উত্তর ভারতে শৈত্যপ্রবাহ ও ‘কোল্ড ডে’ পরিস্থিতির কারণে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্ব রাজস্থান ও বিহারে ১০ ও ১১ জানুয়ারি ‘কোল্ড ডে’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। উত্তরাখণ্ডে ১০ ও ১১ জানুয়ারি ভূমি-তুষার (গ্রাউন্ড ফ্রস্ট) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘন কুয়াশার প্রভাবে সড়ক, রেল ও বিমান চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিদ্যুৎ পরিষেবাতেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতাও জারি করেছে আইএমডি। দীর্ঘ সময় কুয়াশা ও শীতের সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যা বাড়তে পারে। চোখে জ্বালা ও সংক্রমণের ঝুঁকিও রয়েছে। প্রবল শীতে ফ্রস্টবাইট ও হাইপোথার্মিয়ার আশঙ্কা থাকায় বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর সাধারণ মানুষকে গরম পোশাক পরা, অপ্রয়োজনীয় বাইরে না বেরোনো, কুয়াশার সময় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে ফগ লাইট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। কৃষকদের ক্ষেতেও বিশেষ পরামর্শ জারি করা হয়েছে। তামিলনাড়ুতে ভারী বৃষ্টির আগে পাকা ফসল কেটে নিরাপদে রাখার কথা বলা হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহপ্রবণ রাজ্যগুলিতে হালকা সেচ, মালচিং ও ফসল ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পশুপালন ও পোলট্রি ক্ষেত্রেও ঠান্ডা থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চরম শীত, কুয়াশা ও বৃষ্টির জেরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর।

