আগরতলা, ৯ জানুয়ারি: স্ব-সহায়ক দলগুলি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। আজ ধনপুরের কাঠালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত পিঠে-পুলি উৎসবে এই কথা বলেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ।
তিনি আরো বলেন, গ্লোবালাইজেশনের প্রভাব এখন আমাদের খাদ্যাভ্যাসকেও স্পর্শ করেছে। এই মরশুমে আমাদের মা পিঠে, মুয়া, নাড়ু , মুড়ির মুয়া ও চিড়ার মুয়াবানাতেন , যা খুবই স্বাস্থ্যকর। কিন্তু এখন আমরা এগুলোকে উপেক্ষা করে স্ট্রিট ফুড খাচ্ছি। স্ট্রিট ফুড কি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? এর ফলে পেটসংক্রান্ত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে আমরা সুস্থ থাকতে পারি। আমি অন্য খাবারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলছি না।
কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, পিঠে-পুলি উৎসব শুধু খাদ্য উৎসব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক।
তিনি বলেন আমাদের রাজ্যে মোট ৫৪,৬২৭টি স্ব-সহায়ক রয়েছে, যার মধ্যে ৪.৮৯ লাখ সদস্য আছেন। ২০১৮ সালের আগে প্রায় ৩,৫০৬টি গ্রুপকে মোট ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা রিভলভিং ফান্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের সরকার ৩৬,৫৩০ গ্রুপকে ৭৫ কোটি টাকা প্রদান করেছে। এটি আত্মনির্ভরতার এক অনন্য উদাহরণ। ২০১৮ সালের আগে প্রায় ৯০০ গ্রুপ ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিল, কিন্তু আমাদের সরকার ১ লাখেরও বেশি গ্রুপকে ১,৮৯৬ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করেছে। বিজেপি শুধু কথা বলে না, কাজও করে, রাজ্য ও দেশের উন্নতির জন্য। আমাদের রাজ্যে ১ লাখের বেশি নারী লখপতি দিদি হয়েছেন,”।
মন্ত্রী আরও বলেন মহিলারা যখন আত্মনির্ভর হবে, তখন রাজ্য ও দেশও বিকশিত হবে, যা ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গঠনে সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, আমরা আধুনিক হব, কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতেই হবে। আগের সরকারগুলো এমন উদ্যোগ কখনো গ্রহণ করেনি; তারা ঐতিহ্য ভুলে গিয়েছিল। স্বল্পঋণ গ্রুপগুলো গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করবে। এছাড়াও প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, বিধায়ক বিন্দু দেবনাথ সহ অন্যান্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

