ঢাকা, ৭ জানুয়ারি : আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে আমেরিকার ভিসা পেতে হলে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে, যার অধীনে ভিসা আবেদনকারীদের ১৫ হাজার ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা) ভিসা বন্ড হিসেবে জমা রাখতে হবে। এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
আমেরিকা ইতিমধ্যেই আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং বেশ কিছু অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য এই ভিসা বন্ড জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে। এখন নতুন করে বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই তালিকায় ৩৮টি দেশের নাম রয়েছে।
আমেরিকার বিদেশ দফতরের মতে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারী নাগরিকরা যদি আমেরিকার ভিসা (বি১/বি২ ভিসা) পাওয়ার যোগ্য হন, তবে তাদের ভিসা বন্ড হিসেবে নির্ধারিত টাকা জমা দিতে হবে। এই টাকা ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার হতে পারে। ভিসার জন্য আবেদন করার সময় সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ওই টাকা জমা দেওয়ার চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
এছাড়া, আবেদনকারীদের আমেরিকার অর্থ দফতরের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘পে.গভ’ এর মাধ্যমে বন্ড সংক্রান্ত শর্তে সম্মতি জানাতে হবে।
আমেরিকার বিদেশ দফতরের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বহু বিদেশি নাগরিক আমেরিকায় অবৈধভাবে অবস্থান করে থাকেন, যা অভিবাসন নীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রবণতাকে রোধ করতেই এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে হোয়াইট হাউস। এর মাধ্যমে, আমেরিকায় অবৈধ অবস্থান রোধ এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
২০১৬ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। তাঁর প্রশাসন আমেরিকায় থাকা বহু অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে এবং বিভিন্ন ভিসা, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের জন্য কঠোর নিয়ম চালু করেছে। এর মধ্যে ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক মাধ্যমে করা পোস্টগুলোও নজরদারির আওতায় এসেছে।
এবারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ১২টি নতুন দেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশ, ভেনেজুয়েলা, অ্যাঙ্গোলা, আলজেরিয়া, বুরুন্ডি, কিউবা, গ্যাবন, নেপাল, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, টোঙ্গা, উগান্ডা এবং জিম্বাবোয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর আগে, এই ধরনের নিয়ম চালু হয়েছিল আফ্রিকার ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ এবং অন্যান্য কিছু দেশের জন্য।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন এক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে, যা অন্যান্য দেশেও শৃঙ্খলার প্রয়োগে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে পারে।
বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আমেরিকার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া এখন আরও কঠিন এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। তবে, ভিসা বন্ড জমা দেওয়ার বিষয়টি ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া ও শর্তের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে, যার জন্য অনেকেই নতুন দিশা খুঁজে পাবেন কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

