আগরতলা, ২৮ ডিসেম্বর: দীর্ঘদিন ধরে জনজাতি সমাজকে ভুল দিশায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে তাদের প্রকৃত উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। আজ হেজামারার সিমনা মাল্টিপারপাস কমিউনিটি হলে ৩২ নম্বর বুথের উদ্যোগে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’ শ্রবণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার মানুষের সঙ্গে একত্রে ‘মন কি বাত’ শ্রবণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, রতন ঘোষ সহ বিজেপির জনজাতি মোর্চার নেতৃত্ব বিপিন দেববর্মা ও মঙ্গল দেববর্মা এবং অন্যান্য দলীয় কার্যকর্তারা।
মন কি বাত অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনজাতি সমাজকে ভুল দিশায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে তাদের প্রকৃত উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। বর্তমান সরকার এবং ভারতীয় জনতা পার্টি সেই পরিস্থিতি থেকে জনজাতি সমাজকে বের করে এনে প্রকৃত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একজন জনজাতি মহিলাকে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। পাশাপাশি ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সদস্য যীষ্ণু দেববর্মাকে তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্যকে প্রকৃত সম্মান জানিয়েছে বর্তমান সরকার। যতই বাধা আসুক না কেন, জনজাতি সমাজের উন্নয়ন থামানো যাবে না এবং অন্তিম মাইল পর্যন্ত বর্তমান সরকার সেই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন।
তিনি আরও জানান, পিছিয়ে পড়া জেলাগুলির উন্নয়নে বর্তমান সরকার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছে। বিকল্প জাতীয় সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, তার বড় অংশই জনজাতি মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। পাশাপাশি জনজাতিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলা ও মহকুমা স্তরে টিসিএস অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী সমাজপতিদের ভাতা ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করার কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে কেপিং ব্যবস্থা ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে, ফলে সকল সমাজপতি এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই যোজনার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি জানান, সারা দেশে একমাত্র ত্রিপুরা রাজ্যেই প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আদলে মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা চালু করা হয়েছে। এর ফলে যাঁরা প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় আসেন না, তাঁরাও বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পাচ্ছেন।
এদিন অনুষ্ঠানে জনজাতি সমাজের মা-বোনদের ব্যাপক উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকার জনজাতি অংশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে চলেছে।

