পরবর্তী পাঁচ বছরে ৫৫০ গিগাওয়াট ক্লিন এনার্জির লক্ষ্যে ভারত: পীযূষ গোয়েল

নিউ ইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর: ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে ভারতের ক্লিন এনার্জি খাতে ব্যাপক বিস্তার ঘটানোর জন্য এটি এক “সুবর্ণ সুযোগ”। নিউ ইয়র্কে ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরামের এক আলোচনাসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ২৫০ গিগাওয়াটেরও বেশি পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে এবং সরকার এই ক্ষমতা ৫৫০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে।

মন্ত্রী গোয়েল আরও বলেন, ভারতের শক্তি নিরাপত্তা পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে চলেছে। এর ফলে ভারতের জন্য জ্বালানি সরবরাহ আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল হবে এবং এই অংশীদারত্ব কেবল জ্বালানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—বিস্তৃতি ঘটবে অন্যান্য ক্ষেত্রেও।

তিনি বলেন, “ভারত একটি বড় এনার্জি বাজার। আমরা বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি আমদানি করি। সেজন্য, শক্তি নিরাপত্তার মতো খাতে দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” তিনি আশাবাদী যে, আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের জ্বালানি পণ্য বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কনসুলেট জেনারেল-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গোয়েল বলেন, “ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রাকৃতিক অংশীদার হওয়ায়, আমাদের শক্তি নিরাপত্তা পরিকল্পনায় মার্কিন সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এর ফলে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি পাওয়া যাবে, যা আমাদের একাধিক ক্ষেত্রে সীমাহীন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।”

পীযূষ গোয়েল জানান, পারমাণবিক শক্তিও এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে ভারত ও আমেরিকা একসঙ্গে কাজ করতে পারে। দুই দেশের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতায় এক নতুন অধ্যায় শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের জন্য আমাদের এমন এক কাঠামো তৈরি করতে হবে, যেখানে ভূরাজনীতির চাপে শক্তি নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।”

গোয়েল এদিন সতর্ক করেন, “সবুজ প্রোটেকশনিজম এমন এক ফাঁদ, যেখানে কেউ মাথা গুঁজে বসে থাকলে তার জন্য বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।” তাঁর মতে, বিশ্বব্যাপী কার্বন নিরপেক্ষতার লক্ষ্য অর্জনে উন্মুক্ত ও সহযোগিতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই গ্রহণযোগ্য পথ।

এই সফরে গোয়েল একটি উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার উদ্দেশ্য হল ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির দ্রুত সমাপ্তি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব পঙ্কজ জৈন, ইউএসআইএসপিএফ-র প্রেসিডেন্ট মুকেশ আগ্নি, রিনিউ-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা বৈশালী নিগম সিনহা এবং চেয়ারম্যান ও সিইও সুমন্ত সিনহা।

নবরাত্রির শুরু উপলক্ষে পীযূষ গোয়েল বলেন, “এই দিনটি শুভ সূচনার প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, আজ থেকে পরিস্থিতি আরও ভালোর দিকে মোড় নেয়।”