দেশেই সক্রিয় খালিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী, অর্থসাহায্য পাচ্ছে কানাডা থেকে

নয়াদিল্লি/অটোয়া, ৬ সেপ্টেম্বর : ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগকে সত্যি প্রমাণ করল কানাডার নতুন সরকারি রিপোর্ট। কানাডার অর্থ মন্ত্রকের সদ্য প্রকাশিত এক নথিতে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়েছে যে খালিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি কানাডায় সক্রিয় এবং তারা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে।

কানাডার অপরাধ দমন কোডে তালিকাভুক্ত বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠনকে “পলিটিক্যালয় মোটিভেটেড ভিওলেন্ট এক্সট্রিমিজম” ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে হামাস, হিজবুল্লাহর পাশাপাশি খালিস্তানি সংগঠন বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল শিখ ইয়ুথ ফেডারেশনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কানাডা থেকেই এসব সংগঠন আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দারা পর্যবেক্ষণ করেছেন।

২০২৫ সালের এসেসমেন্ট অফ মানি লাউন্ডারিং এন্ড টেররিস্ট ফাইন্যান্সিং রিস্কস ইন কানাডা শীর্ষক রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, আগে খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলির কানাডায় ব্যাপক তহবিল সংগ্রহ নেটওয়ার্ক ছিল। বর্তমানে তা ছোট ছোট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির মধ্যে সীমিত হয়ে এসেছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলি মূলত অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে চাঁদা তোলে, বেসরকারি সংস্থা ও নন-প্রফিট সংগঠনগুলির অপব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করে। এছাড়া তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপ, ব্যাংকিং ও মানি সার্ভিস বিজনেস-এর অপব্যবহার, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বিদেশি রাষ্ট্রীয় মদত থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে।

খালিস্তানি আন্দোলনের লক্ষ্য পাঞ্জাবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র “খালিস্তান” প্রতিষ্ঠা করা। এ নিয়ে ভারত বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কানাডা এতদিন বিষয়টি উপেক্ষা করেছে, যার ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেছিলেন, খালিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে ভারতের হাত রয়েছে। নয়াদিল্লি সেই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে খারিজ করে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে অভূতপূর্ব কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতকে আশ্বাস দেন যে খালিস্তানি ইস্যুতে পদক্ষেপ নেবেন। দুই দেশই দূতাবাস পুনর্বহাল করতে সম্মত হয়। যদিও খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ এখনও দেখা যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডার এই রিপোর্ট ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল। কারণ প্রথমবার কানাডার সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল, খালিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী দেশটির মাটিতে সক্রিয় এবং আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে।