নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সংবিধান সম্মত নয়, শাসকদল বিজেপি সংবিধান বহির্ভূত আইন প্রনয়ণের মাধ্যমে বিভাজনের রাস্তা আরও প্রশস্ত করার চক্রান্ত করছে : বিরোধী দলনেতা

আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর : নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সংবিধান সম্মত নয়। কারণ, দেশের কোনো আইন ধর্মকে ভিত্তি করে হয়না। কিন্তু শাসকদল বিজেপি সংবিধান বহির্ভূত আইন প্রনয়ণের মাধ্যমে বিভাজনের রাস্তা আরও প্রশস্ত করার চক্রান্ত করছে। আজ সিএএ-র কাট-অফ তারিখ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে এমনটাই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর কথায়, সিএএ-র কাট-অফ তারিখ বৃদ্ধির ফলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে না।

এদিন শ্রী চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে শরণার্থীদের ভ্রমণ সংক্রান্ত নথির বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। গত বছর কার্যকর হওয়া সিএএ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে যাঁরা ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে ভারতে এসেছেন, সেই সমস্ত নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষ ভারতীয় নাগরিকত্বের যোগ্য বলে বিবেচিত হন। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ অবধি যাঁরা ভারতে এসেছেন, তাঁদের নথিপত্র বৈধ না হলেও অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে না। আসলে, আগামীদিনে ভোট বৈতরণী পার করার জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের কাট-অফ তারিখ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তাঁর কথায়, বিগতদিনেও রাজ্যে অনুপ্রবেশ হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তে বিএসএফ ও কাঁটা তারের বেড়া থাকা সত্বেও কিছু কিছু জায়গায় অনুপ্রবেশ হচ্ছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মীরা টাকার বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্যের প্রবেশ করার আগেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র বের করে দিচ্ছেন। অতিসত্বর এর বিরুদ্ধে সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু উল্টো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সিএএ কাট-অফ তারিখের মেয়াদ ১০ বছর বৃদ্ধি করছে। তার ফলে দেশে অনুপ্রবেশ চিহ্নিত করা সম্ভব হবে না। তাই অবিলম্বে সিএএ আইন বাতিল করার দাবিতে জনগণকে একত্রে এগিয়ে আসতে হবে। তানা হলে জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরী হবে, বলে দাবি করেন তিনি।