নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর গুরুত্ব নিয়ে একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে এই নীতি ভারতের স্বনির্ভরতা ও সার্বিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হতে চলেছে।
“পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে শিক্ষক” শীর্ষক এই প্রবন্ধটি রচনা করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রবন্ধে তিনি শিক্ষক সমাজের পরিবর্তিত ভূমিকা, প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহণ, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নতুন পাঠক্রম এবং শিক্ষার্থীদের বিবিধ চাহিদা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
“এই প্রবন্ধে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন এবং তুলে ধরেছেন কীভাবে শিক্ষকরা আজ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাপদ্ধতি, এআই, ও পরিবর্তিত শিক্ষানীতি গ্রহণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলছেন।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর প্রবন্ধে লেখেন, “জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী জাতীয় প্রচেষ্টা, যা ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য অর্জনের কেন্দ্রবিন্দু। এই নীতিতে শিক্ষকদের ‘রূপান্তরকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবেন।”
তিনি আরও বলেন,”পিতা-মাতা জন্ম দেন; কিন্তু গুরু জীবন দেন। এই জীবনদাতারাই বিদ্যালয়ের প্রাণ। সরকার বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করতে পারে, কিন্তু শিক্ষকরা হলেন তার আত্মা।”
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘স্বদেশী’র আহ্বান জানিয়ে এসেছেন। ২০৪৭ সালের মধ্যে এক সমৃদ্ধশালী ভারত গঠনের লক্ষ্যেই এই ডাক। ২০২০ সালে চালু হওয়া জাতীয় শিক্ষানীতি-এর ইতিমধ্যেই ৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। নতুন শিক্ষানীতির মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক, নম্বরভিত্তিক শিক্ষা ও মুখস্থবিদ্যার গণ্ডি ছাড়িয়ে বাস্তবভিত্তিক ও সক্ষমতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নতুন “৫+৩+৩+৪” শিক্ষাকাঠামো এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম কাঠামো ২০২৩ শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যেখানে শিক্ষার্থী হবে কেন্দ্রে, আর শিক্ষা হবে আনন্দদায়ক, উপযোগী এবং জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।

