নয়াদিল্লি, ২৪ আগস্ট : ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রবল বর্ষণ এবং আকস্মিক বন্যার ফলে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর পূর্ব রাজস্থান এবং জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য চরম ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। একইসঙ্গে পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড এবং পশ্চিম রাজস্থানেও বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, কঙ্কণ, গোয়া, মধ্য মহারাষ্ট্র এবং সিকিমেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর পাশাপাশি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ এবং অন্যান্য রাজ্যের কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইএমডি।
রাজস্থানে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কোটা, বুন্দি, টোঁক, সাওয়াই মাধোপুর এবং বারান জেলার বিভিন্ন নিচু অঞ্চল জলের নিচে চলে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডৌসা জেলায় চরম ভারী বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে আলওয়ার, জয়পুর, সাওয়াই মাধোপুর, সিকার ও টোঁকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আজমের, উদয়পুর, সিরোহি, প্রতাপগড় ও ভরতপুরের মতো জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বহু গ্রাম জেলা সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, রেল চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। সাওয়াই মাধোপুর স্টেশনে জল জমে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং কোটা জেলার দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ে-ও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি খাত। ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে একটি বিশেষ সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বিহারে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঝাড়খণ্ড থেকে গভীর রাতে বিপুল পরিমাণ জল ছেড়ে দেওয়ার ফলে ফাল্গু, লোকাইয়েন, মুহানে ও অন্যান্য ঋতুগত নদীগুলির জলস্তর হঠাৎ বেড়ে গিয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নালন্দা, জেহানাবাদ ও গয়া জেলার বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একঙ্গরসরাই ও হিলসা ব্লকের অন্তত ১২টি গ্রামে জল ঢুকে পড়ায় মানুষকে বাড়ির ছাদে এবং উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। নালন্দা-জেহানাবাদ এবং একঙ্গরসরাই-মাসৌড়ি সড়কে জল উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গয়ার অনেক এলাকায় নদীর জল গ্রামে ঢুকে পড়েছে এবং ঘরবাড়ি ও ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলাশাসক শশাঙ্ক শুভঙ্কর দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জম্মু ও কাশ্মীরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জম্মু বিভাগের অনেক জেলায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, যানজট ও অন্যান্য সমস্যার মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া দফতর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডোডা, কাঠুয়া, কিশতওয়ার, পুঞ্চ, রাজৌরি, রামবান, রেয়াসি, সাম্বা, উদমপুর, অনন্তনাগ এবং কুলগাম সহ জম্মু অঞ্চলের দশটি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্ভাব্য ক্লাউডবার্স্ট, ফ্ল্যাশ ফ্লাড ও ভূমিধসের আশঙ্কায় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার থারালি এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু পরিবার। এখন পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে গৃহহীনদের পরিবার ও মৃতদের আত্মীয়দের জন্য ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও, ত্রাণ সামগ্রী দ্রুত সরবরাহ এবং অস্থায়ী পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং চিকিৎসা পরিষেবাও সচল রয়েছে। রাজ্যের একাধিক জেলায় আজ ও আগামীকাল অরেঞ্জ এবং ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করেছে আইএমডি।
এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলি পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

