ধর্মনগরে কংগ্রেস-বিজেপির মিছিল, পাল্টা মিছিল ও থানা ঘেরাওকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

ধর্মনগর, ১৮ আগস্ট:
উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে রবিবার সন্ধ্যায় কংগ্রেস ও বিজেপির মিছিল, পাল্টা মিছিল এবং থানা ঘেরাওকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিধানসভার অধ্যক্ষ তথা ধর্মনগর বিধানসভার বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেনের অনুপস্থিতিতেই শহরে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে।

কংগ্রেসের অভিযোগ, এদিন দুপুরে ব্লক সভাপতি সুবল গোস্বামীর বাড়িতে ২০-২৫ জন দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তারা সুবল গোস্বামীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে কংগ্রেসের প্রচার সংক্রান্ত কয়েকটি পোস্ট মুছে ফেলে। এছাড়া বাড়িঘরে ভাঙচুর ও তাঁর শাশুড়ির উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। তারা সবাই বিজেপির সমর্থক বলে অভিযোগ উঠে। এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় জেলা কংগ্রেস ভবন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে কর্মীরা ধর্মনগর থানার সামনে জমায়েত হন। সেখানেই স্লোগান দিতে দিতে তারা ওসি-কে আল্টিমেটাম দেন— দোষীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত থানা ঘেরাও চলবে। প্রদেশ কংগ্রেস সম্পাদক চয়ন ভট্টাচার্যও হুঁশিয়ারি দেন যে, প্রয়োজনে তারা আইন হাতে তুলে নেবেন। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনের পর থেকে ধর্মনগরে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, দোকানপাটে চাঁদাবাজি ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।

অন্যদিকে, কংগ্রেস আন্দোলনের মাঝেই ধর্মনগর বিজেপি দলও একটি পাল্টা মিছিল বের করে। বিজেপির অভিযোগ, বহিরাগত কংগ্রেস কর্মীরা থানার ভেতরে বসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন কি বাত সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। তাদের মতে, কংগ্রেস শহরে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে। বিজেপি নেতৃত্ব আরও অভিযোগ করে যে, বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অশান্ত করছে। যুব মোর্চার কর্মীরাও কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন— “কংগ্রেসের আলাদা কোনো ওষুধের দরকার নেই, তাদের চিকিৎসার জন্য বিজেপির কাছেই যথেষ্ট ওষুধ রয়েছে।”

ফলে থানার চত্বর জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশবাহিনীর উপস্থিতিতে কংগ্রেস কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে গোটা শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।