অনুপ্রবেশ রুখতে বিহারের মতো ত্রিপুরাতেও ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন করা হবে, জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন: প্রদ্যোত

আগরতলা, ২৩ জুলাই: বিহারের মতো গোটা দেশে এবং ত্রিপুরাতেও অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন(এসআইআর) করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আজ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়েছেন তিপ্রা মথার প্রাক্তন সুপ্রিমো তথা এমডিসি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন।

বিহারের মতো ত্রিপুরাতেও অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন করতে হবে। এই দাবিতে আজ ভারতের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তিপ্রা মথা। এদিনের বৈঠকে দলের তরফে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রাক্তন সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ, মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, বৃষকেতু দেববর্মা, বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা সহ অন্যান্যরা।

এদিনের বৈঠক শেষে প্রদ্যোত কিশোর বলেন, মূলত বিহারের মতো ত্রিপুরাতেও অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন করার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, যেভাবে ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই দিনটি আর বেশি দূর নয় যখন বেঁচে থাকার জন্য ত্রিপুরার প্রকৃত নাগরিকদের সংঘর্ষ করতে হবে। অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি দেশের জন্য, তথা রাজ্যের জন্য একটি বিপদ। এর বিরুদ্ধে এখনই রুখে না দাঁড়ালে ভবিষ্যতে আরো খারাপ অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। তাই অবিলম্বে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে ভারতে নির্বাচন কমিশনের কাছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছেন, বিহারের মতো গোটা দেশেই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন করা হবে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরাতেও একইভাবে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন করা হবে বলে নির্বাচন কমিশনের তরফে আজ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ।

তিনি আরো বলেন, তিপ্রা মথা একটি স্বাধীন দল। নিজেদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে তারা আজ নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। এর সঙ্গে তাদের শরিক বিজেপি দলের কোনো যোগ নেই। যদি অন্যান্য দলের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় তাহলে তারা তাদের মত করে আলোচনা করবে।

তিনি বলেন, তিপ্রা মথা দলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রাজ্যের কথা চিন্তা করে তিনি দলের তরফে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। এর জন্য কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই। অনুপ্রবেশ ইস্যুকে নিয়ে যদি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয় তাহলে তিনি সেখানেও যাবেন। বিগত সময়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে যে ভুল করা হয়েছে, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক অথবা সামাজিকভাবে একই ভুল যেন না হয় সেই জন্য প্রয়োজনীয় সকল ধরনের পদক্ষেপ নেবে তিপ্রা মথা।

এদিন তিপ্রাসা চুক্তি সম্পর্কেও বলতে গিয়ে প্রদ্যোত কিশোর বলেন, সরকারের সঙ্গে জোটে যাওয়ার একটাই কারণ ছিল তিপ্রাসা চুক্তি। এ চুক্তির ভিত্তিতেই সরকারের সঙ্গে শরিক দলে সামিল হয়েছিল তিপ্রা মথা দল। যদি সরকার এই চুক্তি সম্পন্ন না করে তাহলে সরকারের সঙ্গে তিপ্রা মথা থাকবে কিনা সেই বিষয়েও বিবেচনা করা হবে।