নয়া তিন ফৌজদারী আইন বাস্তবায়নে রাজ্য জুড়ে সচেতনতা ও সমন্বয়ের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ২০ জুলাই: “অনেক সময় ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’ আমার কানে আসে, এসব বরদাস্ত করা হবে না”—প্রজ্ঞাভবনে নয়া তিন ফৌজদারী আইন বাস্তবায়নে কড়া সুরে সতর্কবার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, পরিবর্তিত সময়ের প্রেক্ষিতে দেশের আইন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন তিনটি ফৌজদারি আইন—ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইন, ২০২৩। এছাড়াও, কার্যকর হয়েছে সংশোধিত এনডিপিএস আইন। দেড় শতাব্দী প্রাচীন ঔপনিবেশিক ভারতীয় দণ্ডবিধিকে সরিয়ে রেখে এই নতুন আইনের মাধ্যমে দেশজুড়ে ন্যায় ও শৃঙ্খলার নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।

রাজ্যে এই আইনগুলির কার্যকর বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। সেই উপলক্ষে আজ রাজধানীর প্রজ্ঞাভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় অংশ নেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক-সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নয়া তিন ফৌজদারী আইন সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা অনেক উন্নত হয়েছে, আরও উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, নতুন আইনগুলির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই সাথে কর্মপদ্ধতিতে শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।

নতুন আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপরও জোর দেন ড. সাহা। তিনি বলেন, শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে রাজ্যে এই তিন নয়া ফৌজদারী আইন বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে। মুখ্য সচিব ও পুলিশ মহা নির্দেশককে পাশে রেখে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর, সময়োপযোগী ও নাগরিকবান্ধব এই নতুন আইনগুলির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজ্যে আইনের শাসন আরও মজবুত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন জেলার পুলিশ প্রশাসনের কর্তা, আইন দপ্তরের প্রতিনিধি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।