নতুন দিল্লি, ১৪ জুলাই : ভারতের যুব সমাজকে মাদকমুক্ত ও আত্মনির্ভর করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ড. মনসুখ মান্ডাভিয়া আজ নতুন দিল্লিতে ‘ইয়ুথ স্পিরিচুয়াল সামিট’-এর ঘোষণা দেন। ‘নেশামুক্ত যুবা, বিকশিত ভারত’ শীর্ষক এই সামিট আগামী ১৮ থেকে ২০ জুলাই, ২০২৫ পর্যন্ত বারাণসীর পবিত্র গঙ্গার তীরে অনুষ্ঠিত হবে। ড. মান্ডাভিয়া বলেন, “ভারতের ৬৫ শতাংশ জনসংখ্যা ৩৫ বছরের কম বয়সী, যার গড় বয়স ২৮। এই যুবরাই ভারতের বিকাশের চালিকাশক্তি, তাদের সুরক্ষা ও শক্তিকরণ এখন আমাদের অগ্রাধিকার।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার আহ্বানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. মান্ডাভিয়া বলেন, আমাদের যুব সমাজ শুধু এই ভবিষ্যতের সুবিধাভোগী নয়, বরং তার রূপকার। কিন্তু মাদকাসক্তি আজ যুবসমাজের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ। এই আসক্তি তরুণদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে এবং জাতীয় উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আধ্যাত্মিক সংগঠনের সঙ্গে অংশীদারিত্বে একটি ব্যাপক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী মাদকবিরোধী কর্মসূচি শুরু করছে।
এই প্রয়াসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনদিনব্যাপী ‘ইয়ুথ স্পিরিচুয়াল সামিট’, যেখানে দেশের ১০০টি আধ্যাত্মিক সংগঠনের যুব শাখা থেকে ৫০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। এই প্রতিনিধি দল গঙ্গার তীরে একত্রিত হয়ে আলোচনা, আত্মবিশ্লেষণ ও কৌশল প্রণয়নের মাধ্যমে মাদকমুক্ত ভারতের জন্য বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করবেন। সম্মেলনের শেষ দিনে ঘোষণা করা হবে ঐতিহাসিক ‘কাশী ডিক্লারেশন’, যা একটি জাতীয় সংকল্পপত্র হিসেবে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করবে।
সামিটে মোট চারটি মূল অধিবেশন থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে—যুবসমাজে মাদকের প্রভাব, পাচার ও বাণিজ্যিক স্বার্থ ধ্বংস, কার্যকর প্রচার ও সচেতনতা কৌশল, এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে নেশামুক্ত ভারত গড়ার একটি বিস্তৃত রূপরেখা তৈরি। এই অধিবেশনগুলোতে বিশেষজ্ঞদের মূল বক্তব্য, প্যানেল আলোচনা এবং উন্মুক্ত ফোরামের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত তুলে ধরবেন এবং জাতীয় কৌশল তৈরিতে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখবেন।
ড. মান্ডাভিয়া এই সম্মেলনকে একটি ‘জন আন্দোলন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আমরা চাই এই আন্দোলন গোড়ায় মাদক নির্মূল করুক, উৎস চিহ্নিত করুক এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তুলুক।” একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন যে, ২৬ জুলাই কারগিল বিজয় দিবস উপলক্ষে কারগিলে একটি বিশেষ পদযাত্রার আয়োজন করা হবে। এই পদযাত্রায় অংশ নেবে মাই ভারত ক্লাবের সদস্য, স্থানীয় যুবক-যুবতী এবং সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা। এই পদক্ষেপ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবে এবং ফিট ইন্ডিয়া আন্দোলনের প্রচারেও সহায়ক হবে।
এই যুব সম্মেলন শুধু মাদকবিরোধী প্রচারের একটি অংশ নয়, বরং একটি বৃহৎ সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা, যেখানে আধ্যাত্মিকতা ও যুবশক্তির মিলিত প্রয়াসে ভারত একটি আত্মনির্ভর ও নেশামুক্ত সমাজের দিকে এগিয়ে যাবে।

