আষাঢ় পূর্ণিমা উপলক্ষে সারনাথে ধম্মচক্র প্রবর্তন দিবস উদযাপন করবে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মহাসংঘ

বারাণসী, ৮ জুলাই : আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মহাসংঘ, ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের আওতাধীন সংস্থা, মহাবোধি সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় আগামী ১০ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার, বারাণসীর সারনাথের মূলগন্ধ কুটী বিহারে আষাঢ় পূর্ণিমা উপলক্ষে ধম্মচক্র প্রবর্তন দিবস পালন করতে চলেছে। এই দিবসটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র, কারণ এই দিনেই গৌতম বুদ্ধ সারনাথে পাঁচ জন অনুসারী সন্ন্যাসীর উদ্দেশ্যে প্রথম ধর্মদেশনা প্রদান করেছিলেন। এই ‘ধম্মচক্র প্রবর্তন’ অনুষ্ঠানটিই বৌদ্ধ ধর্মে ‘ধর্মের চাকা’ ঘোরানোর সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনুষ্ঠানটি শুরু হবে বিকেল ৪টা থেকে। দিনটির সূচনা হবে ধামেখ স্তূপে পবিত্র পরিক্রমা ও প্রার্থনার মাধ্যমে, যেখানে ভিক্ষু সংঘের নেতৃত্বে ধর্মপাঠ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলাচরণ ও গম্ভীর ধর্মীয় আলোচনা করবেন বিভিন্ন দেশ ও সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট সন্ন্যাসী, পণ্ডিত ও অতিথিবৃন্দ। বুদ্ধের চারটি আর্যসত্য এবং অষ্টাঙ্গিক মার্গের বাণী তুলে ধরা হবে এই অনুষ্ঠানে। এটি শুধু একটি আধ্যাত্মিক উপলক্ষ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধ ঐক্য ও শান্তির বার্তাবহ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান।

আষাঢ় পূর্ণিমা দিনটি শ্রীলঙ্কায় ‘এসালা পোয়া’ ও থাইল্যান্ডে ‘আসানহা বুচা’ হিসেবে পালিত হয়। ভারতে হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় সম্প্রদায় এই দিনটিকে ‘গুরু পূর্ণিমা’ হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপন করে, যেখানে আধ্যাত্মিক গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। গৌতম বুদ্ধকেও একজন সর্বোচ্চ গুরু হিসেবে স্মরণ করা হয় এই দিনে।

২০১২ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মহাসংঘ বিশ্বের ৩৯টি দেশের ৩২০টিরও বেশি বৌদ্ধ সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করেছে। “সমষ্টিগত প্রজ্ঞা, ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ” এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী আইবিসি, বৌদ্ধ মূল্যবোধকে বিশ্বজনীন আলোচনার কেন্দ্রে আনতে সচেষ্ট। নিউ দিল্লিভিত্তিক এই সংস্থা আঞ্চলিক, ধর্মীয় ও লিঙ্গভিত্তিক প্রতিনিধিত্বে বিশ্বাসী একটি সংহত প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণে বৌদ্ধ চিন্তাধারাকে প্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে সারনাথ আবারও বৌদ্ধ আধ্যাত্মিকতার এক কেন্দ্রীয় ভূমিতে পরিণত হতে চলেছে, যেখানে বুদ্ধের শান্তি, সহানুভূতি ও জ্ঞান বার্তা বিশ্বের সামনে নতুন করে উপস্থাপিত হবে।