দিল্লিতে অবৈধভাবে বসবাসরত ১৭ জন নাবালক সহ ৩৬ বাংলাদেশি নাগরিক আটক

নয়াদিল্লি, ১৬ জুন: উত্তর-পশ্চিম জেলার ফরেনারস সেল-এর বিশেষ অভিযান চালিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৭ জনই নাবালক। জাতীয় রাজধানীতে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন এই বাংলাদেশিরা। টানা নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার চালানো অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ভারত নগর এলাকার প্রায় ২৫টি ফুটপাত ও ৩২টি গলিতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে ৭টি স্মার্টফোন (ওই ফোনগুলিতে নিষিদ্ধ আইএমও অ্যাপ ছিল) এবং ১৩টি বাংলাদেশি পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়েছে। এই অভিযানটি ছিল দিল্লি সরকার এবং পুলিশের যৌথ উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য রাজধানীতে অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশিদের খুঁজে বের করে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা।

পুলিশের আরও জানিয়েছে, ১৩ জুন ফরেনারস সেল-এর হাতে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য আসে যে, ওয়াজিরপুর এলাকায় এক বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করছে। এরপর ওই এলাকায় ঘিরে ফেলে পুলিশ একটি বিশেষ যাচাই অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হলে প্রথমে তিনি পুলিশের দলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের চাপে পরে স্বীকার করেন তিনি একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান তীব্রতর হয় এবং একে একে ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, ধৃতদের মধ্যে ১৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৭ জন নাবালক রয়েছে। তারা সকলেই দিল্লির ওয়াজিরপুর জেজে কলোনিতে বৈধ ভিসা, পাসপোর্ট বা প্রবেশ অনুমতি ছাড়াই বসবাস করছিলেন, যা ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের কাছ থেকে পুলিশ জেনেছে, তারা আগে হরিয়ানার মেওয়াট জেলার একটি ইটভাটায় কাজ করত। পরে ভয়ে ওই এলাকা ছেড়ে দিল্লিতে পালিয়ে আসে। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে ও ধরা না পড়তে তারা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিল এবং নতুনভাবে ভাড়া বাসা খোঁজার চেষ্টা করছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। একই সঙ্গে, যারা এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে প্রবেশ ও আশ্রয় দেওয়ার পেছনে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।