ইটানগার, ১৫ জুন : ভারতের উচ্চশিক্ষা মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল উত্তর-পূর্বাঞ্চল। ভারতীয় ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক (আইআইআরএফ) ২০২৫ অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব ভারতের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় স্তরের শীর্ষ ৫০-এর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এই তালিকায় যুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রাজীব গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়, ইটানগর, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়টি টানা দ্বিতীয় বছর ধরে ১৩তম স্থান ধরে রেখে উত্তর-পূর্বের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।
তবে র্যাঙ্কিংয়ে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয় ১৬তম স্থান থেকে নেমে এসেছে ২৪তম স্থানে। মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পতন আরও তীব্র—১৫তম থেকে নেমে ২৫তম স্থানে এসেছে। শিলংয়ের নর্থ-ইস্টার্ন হিল বিশ্ববিদ্যালয় ১৮তম স্থান থেকে পিছিয়ে এবার ২৯তম স্থান অর্জন করেছে, যা এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের সামনে চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। তবে অন্যদিকে, ইম্ফলের সেন্ট্রাল অ্যাগ্রিকালচারাল বিশ্ববিদ্যালয় ২৬তম স্থানে উঠে এসেছে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির এই অগ্রগতি অর্থনৈতিক গুরুত্বও বহন করে।
এছাড়া, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছে। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় ৪৭তম স্থান থেকে ৪৪তম স্থানে উঠে এসেছে, আর নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ৩৭তম থেকে ৩৪তম স্থানে পৌঁছেছে। সিকিম বিশ্ববিদ্যালয় (৩৬তম), আসাম বিশ্ববিদ্যালয় (৩৭তম) ও মণিপুর বিশ্ববিদ্যালয় (৪০তম) শীর্ষ ৫০-এর মধ্যে নিজেদের স্থান ধরে রেখেছে। ফলে সাতটি রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র সিকিম মণিপাল বিশ্ববিদ্যালয় (গ্যাংটক) ২৪তম স্থানে থেকে শীর্ষ ৫০-এ জায়গা করে নিয়েছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়া, শীর্ষ ১০০-তে আরও ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে। এর মধ্যে শিলংয়ের মার্টিন লুথার ক্রিশ্চিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ৬২তম স্থানে রয়েছে, উইলিয়াম কেরি বিশ্ববিদ্যালয় ৬৭তম ও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মেঘালয় ৭৭তম স্থানে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আইআইআরএফ-এর এই র্যাঙ্কিং শুধুমাত্র একাডেমিক পারফরম্যান্স নয়, বরং শিল্পক্ষেত্রের প্রতিক্রিয়া ও চাকরির বাজারের উপযোগিতা বিবেচনা করে তৈরি হয়। সারা দেশের ২,৫০০-রও বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫০০-র বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন থেকে এই ফলাফল উঠে এসেছে। ফলে এই সাফল্য শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

