লন্ডন, ১৪ জুন: চতুর্থ টেস্টে ওভালে ইংল্যান্ডকে ১৫৭ রানে পরাজিত করে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। এই জয়ে শার্দুল ঠাকুর ও রোহিত শর্মা ছিলেন ভারতের দুই প্রধান নায়ক।
লর্ডসে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর হেডিংলিতে মাত্র ৭৮ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ভারত, আর সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড বিশাল ব্যবধানে জিতে সিরিজে সমতা ফেরায়। ওভালের টেস্ট তাই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। প্রথম ইনিংসে ভারতের ব্যাটিং আবারও ভেঙে পড়ে, রোহিত ও কেএল রাহুল শুরুতে ফিরলে দল দাঁড়ায় মাত্র ১৯১ রানে। তবে ৮ নম্বরে নেমে শার্দুল ঠাকুরের দুর্দান্ত অর্ধশতক ভারতকে সেই হতাশা থেকে কিছুটা উদ্ধার করে।
ইংল্যান্ড এরপর ব্যাট করতে নেমে প্রথমে বিপর্যয়ে পড়ে – বুমরাহ ও উমেশ যাদব মিলে পাঁচ উইকেট তুলে নেন মাত্র ৬২ রানে। যদিও অলিভ পোপ, জনি বেয়ারস্টো, মইন আলি ও ক্রিস ওকসের কার্যকর ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড ৯৯ রানের লিড নেয়।
ভারতের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে রোহিত ও রাহুল ফের জ্বলে ওঠেন। তারা ৮৩ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন। এরপর রোহিত শর্মা পূর্ণ করেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিদেশের মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি, মইনের বলে ছক্কা মেরে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। তবে দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোহিত আউট হন ১২৭ রানে, এবং একই ওভারে বিদায় নেন পুজারা।
দলের স্কোর তখন ২৩৬/১ থেকে ৩১২/৬। আবারও চাপ তৈরি হয়। তবে শার্দুল ঠাকুর দ্বিতীয়বারের মতো উদয় হন ভারতের ত্রাতা হয়ে। রিশভ পন্থের সঙ্গে ১০০ রানের জুটি গড়ে ভারতকে তুলে দেন শক্ত অবস্থানে। শেষমেশ ভারত ৪৬৬ রান করে অলআউট হয়।
৩৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ভালো হলেও, পঞ্চম দিনের সকালে শার্দুলের হাত ধরে ররি বার্নসের উইকেট পড়তেই ম্যাচ ঘুরে যায়। এরপর জাদেজা, উমেশ, বুমরাহ এবং ঠাকুর মিলে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ধসে দেন। জো রুটকেও ফিরিয়ে দেন ঠাকুর, যা কার্যত ইংল্যান্ডের হারের সিলমোহর।
শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড অলআউট হয় ২১০ রানে। ভারত জেতে ১৫৭ রানে। সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় কোহলির দল। ভারতের জন্য এটি ছিল শুধু একটি জয় নয়, বরং বিদেশের মাটিতে দলগত ঐক্য, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক দৃঢ়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

