নয়াদিল্লি, ৭ জুন : গত এক দশকে ভারতের কৃষিখাত এক নীরব বিপ্লবের সাক্ষী হয়েছে। এই বিপ্লবের পেছনে “বীজ থেকে বাজার” পর্যন্ত পৌঁছনোর দৃষ্টিভঙ্গির বড় ভূমিকা রয়েছে। কৃষি খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দ ২০১৩-১৪ সালে যেখানে ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা, তা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকায়—অর্থাৎ প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি।
প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (পিএম-কিষান) যোজনা’র অধীনে ১১ কোটি কৃষকের কাছে সরাসরি পৌঁছে গেছে ৩.৭০ লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ। এতে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কিষান ক্রেডিট কার্ড যোজনার মাধ্যমে ১০ লাখ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, এবং প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার অধীনে প্রায় ২০ কোটি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এই যোজনায় ১.৭৫ লাখ কোটি টাকার ফসল বিমা দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি, গম, ধান, ডাল ও তৈলবীজের মতো প্রধান ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে বড়সড় বৃদ্ধি হয়েছে।
পিএম-কুসুম (সোলার পাম্প প্রকল্প) এবং প্রাকৃতিক কৃষি মিশনের মতো উদ্যোগগুলি কৃষিতে টেকসইতা ও পরিবেশবান্ধব চর্চাকে উৎসাহিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষি সেচ যোজনা এবং মাটি স্বাস্থ্য কার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধা ও মাটির উৎপাদনশীলতায় উন্নতি ঘটেছে। কৃষকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানে সজ্জিত করা হয়েছে।
দুগ্ধ উৎপাদনে গত এক দশকে ৬৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি হয়েছে, যার ফলে ভারত আজ বিশ্বের বৃহত্তম দুগ্ধ উৎপাদক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এতে ৮ কোটিরও বেশি দুগ্ধচাষী উপকৃত হয়েছেন।
মৎস্য উৎপাদনেও গত ১০ বছরে দ্বিগুণ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা উপকূলবর্তী অঞ্চলের সমৃদ্ধি ও গ্রামীণ জীবিকার উন্নতিতে সহায়ক হয়েছে।

