অবিরাম বর্ষণে অরুণাচলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি: ১২ জনের মৃত্যু, ৩,০০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত

ইটানগর, ৪ জুন: অরুণাচল প্রদেশে বর্ষার প্রবল বৃষ্টিপাতে বন্যা ও ভূমিধসের জেরে পরিস্থিতি ক্রমশই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২৩টি জেলার ৩,০০০-রও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাজ্যের স্টেট এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার।

এসইওসি -এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন—এর মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু ভূমিধসে, ১ জনের মৃত্যু বন্যায়, ১ জনের মৃত্যু দেওয়াল ভেঙে পড়ায় এবং ১ জন গাছ ভেঙে পড়ে, যা মে মাসে লংডিং জেলায় ঘটে।

নতুন করে ভূমিধসের খবর এসেছে দিবাং ভ্যালি, আনজাও ও লিকাবালি-আলো হাইওয়ে এলাকা থেকে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। রাজ্যের একাধিক নদী ফুলেফেঁপে উঠেছে, যার ফলে আরও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চাংলাং জেলায় অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে ২,২৩১ জন বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মাকান্তং সেতুর একটি অংশ ধ্বসে পড়ে, ট্রান্স-অরুণাচল হাইওয়েতে মিয়াও এবং বর্ডুমসার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

মিয়াও সাবডিভিশনের একাধিক পর্যটন কেন্দ্র—যেমন জুপরা এবং রিভার ক্যাফে—জলের তলায় চলে গেছে। প্রচুর গবাদি পশু, কৃষিজ সম্পদ ও বাগান ধ্বংস হয়েছে। বালিনং-এর আইটিআই কলেজের হোস্টেল ও স্টাফ কোয়ার্টার মারাত্মক ক্ষতির মুখে।

এখানে ১১৪টি কাঁচা বাড়ি, ৫১টি রাস্তা, ১৭টি বিদ্যুৎ লাইন, ২৩টি জল সরবরাহ লাইন এবং দুটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইটানগর ক্যাপিটাল রিজিয়ন ও পাক্কে কেসাং এলাকাতেও রাস্তাঘাট ও পানীয় জল সরবরাহের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মোট ২১২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, ৪২৫টি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩৭ হেক্টর জমির ফসল ও গাছপালা ধ্বংস হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২,২৪৯ জনকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে, তিনটি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ২৩৯ জন।

উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, রাজ্য পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন। রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী চোনা মেইন এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে জানান, “মানুষের সুরক্ষাই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি নবাম টুকি সরকারকে অনুরোধ করেছেন যাতে দ্রুত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয় এবং বাস্তব সময়ে বন্যা ও ভূমিধস সংবেদনশীল সেন্সর স্থাপন করা হয়। তিনি বলেন, “সবচেয়ে প্রত্যন্ত এলাকাতেও বহুস্তরীয় বার্তা পৌঁছানো জরুরি।”

বর্ষা আরও তীব্র হচ্ছে, ফলে প্রশাসন আগামী দিনে আরও চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। অরুণাচল জুড়ে মানুষের জীবন ও পরিকাঠামো রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।