News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের
Image

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের

আগরতলা, ৩ জুন : ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক গঙ্গা প্রসাদ প্রসাইন এবং রেজিস্ট্রার ড. দীপক শর্মার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে চিঠি দিয়েছেন ত্রিপুরার কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। চিঠিতে তিনি অবিলম্বে এই দুই শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তার অপসারণ এবং বিগত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে একটি স্বাধীন ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

চিঠিতে সুদীপবাবু লেখেন, “ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত ঐতিহ্য আজ লজ্জাজনকভাবে দুর্নীতির ছায়ায় ঢাকা পড়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক গঙ্গা প্রসাদ প্রসাইন এবং রেজিস্ট্রার ড. দীপক শর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি এবং অনৈতিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত করেছেন। তাদের শাসনকালে মেধা ও যোগ্যতার বদলে পক্ষপাতিত্ব ও দুর্নীতি হয়ে উঠেছে প্রধান চালিকাশক্তি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞাপন ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে এবং বর্তমান উপাচার্যের নির্বাহী ক্ষমতা আইনত প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অধ্যাপক প্রসাইন এবং রেজিস্ট্রার শর্মা আগামী ৮ ও ৯ জুন সমাজবিজ্ঞান, সংস্কৃত ও আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউ ডেকেছেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

সুদীপ রায় বর্মন অভিযোগ করেন, “গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক নিয়োগে বিস্তর অনিয়ম হয়েছে। যোগ্য স্থানীয় প্রার্থীদের বঞ্চিত করে বাইরের রাজ্য থেকে অযোগ্য ও অযোগ্যতর প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি উপাচার্য নিজেই নিজের ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ করেছেন, যা সরাসরি স্বজনপ্রীতির উদাহরণ।”

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং স্থানীয় থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগেও মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আরএসএস ও বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সুপারিশে বাইরের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা আরও উদ্বেগজনক।”

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সুদীপ রায় বর্মনের দাবি, “উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে অবিলম্বে বরখাস্ত করে একটি স্বাধীন ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিগত এক বছরে নিয়োগ, চুক্তি স্বাক্ষর ও উচ্চমূল্যের কেনাকাটার সমস্ত বিষয়ে তদন্ত করা হোক। এই দাবি এখন ত্রিপুরার জনগণের জনমত।”

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও সরকার কীভাবে এত বড় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির পাহাড় চুপচাপ সহ্য করতে পারেন? ত্রিপুরার যুবসমাজ, যারা মেধা ও পরিশ্রম নিয়ে চাকরির জন্য লড়াই করছে, তাদের ভবিষ্যৎ কি এমন দুর্নীতির বলি হবে?”

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য বিধানসভায় আলোচনাও হয়েছে এবং সেখানে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সুদীপবাবুর মতে, এখনই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা আরও ক্ষুন্ন হবে।

Releated Posts

বার্ণালী গোস্বামীকে শোকজ নোটিস বিজেপির

আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: ধর্মনগর মণ্ডল এলাকায় একটি ‘অনভিপ্রেত’ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দলীয় সদস্য বার্ণালী গোস্বামীকে শোকজ নোটিস দিয়েছে…

ByByReshmi Debnath Sep 25, 2026

টেট আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে আগরতলায় বাম ছাত্র-যুব সংগঠনের বিক্ষোভ

আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় আগরতলায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি…

ByByReshmi Debnath Sep 25, 2026

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। এদিন অফিস লেন…

ByByTaniya Chakraborty Sep 25, 2026

প্রায় ১৬ লক্ষ ই-চালান বকেয়া, পুজোর আগে ট্রাফিক পাসে কড়াকড়ি ত্রিপুরায়

আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: ২০২০ সাল থেকে ত্রিপুরায় প্রায় ১৬ লক্ষ ই-চালান বকেয়া পড়ে রয়েছে। বকেয়া ট্রাফিক জরিমানার পরিমাণ…

ByByTaniya Chakraborty Sep 25, 2026
Scroll to Top