ওয়াশিংটন, ১৭ মে: মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য অভিবাসীদের নিয়ে রিয়েলিটি শো? এমনই একটি ‘আউট অব দ্য বক্স’ প্রস্তাব বর্তমানে খতিয়ে দেখছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি । বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে, যদিও বিভাগ জানিয়েছে এখনো কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এই নতুন ও ব্যতিক্রমী ধারার টিভি শো প্রস্তাবের তথ্য প্রথমে প্রকাশ করে ডেইলি মেইল, এরপর নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ তা বিশদে উঠে আসে। ডিএইচএস মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন জানিয়েছেন, “এই প্রস্তাবটি এখনো অনুমোদিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়নি। প্রতিটি প্রস্তাবই নির্দিষ্ট যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সৃজনশীল ও নতুন চিন্তাধারার প্রতি উন্মুক্ত। এটি আমেরিকান হওয়ার আনন্দ উদযাপনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
এই ধারণার পেছনে রয়েছেন কানাডা-জন্মা ৪৯ বছর বয়সী প্রযোজক রব ওয়ারসফ, যিনি ডাক ডাইনেস্টি -এর মতো জনপ্রিয় শো প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজের নাগরিকত্ব পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর এই ভাবনা এসেছে বলে জানান তিনি।
ওয়ারসফ বলেন, “আমাদের এখন প্রয়োজন একটি জাতীয় আলোচনার—আমেরিকান হওয়ার মানে কী, এবং কেন এটি একটি গর্বের বিষয়।” তাঁর মতে, “এটি কোনও হাঙ্গার গেমস টাইপ প্রতিযোগিতা নয়। হেরে গেলে কাউকে দেশছাড়া করা হবে না বা কোনও শাস্তি দেওয়া হবে না।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩৬ স্লাইডের একটি প্রেজেন্টেশন ডেকে দেখানো হয়েছে যে, শোটি এক ঘণ্টার একাধিক পর্বে হবে। প্রতিযোগীরা এলিস আইল্যান্ডে এসে শুরু করবেন এবং বিজয়ীকে নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ্যমে শো শেষ হবে।
এই প্রস্তাব এমন সময় এসেছে যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন নীতিতে কঠোর পদক্ষেপ চলছে। অবৈধ অভিবাসী, শরণার্থী, আইনানুগ বাসিন্দা এমনকি মার্কিন নাগরিক সন্তানদের পরিবারগুলিও প্রভাবিত হচ্ছে। এই পটভূমিতে রিয়েলিটি শো-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রদান নিয়ে বিতর্ক স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে।
ডিএইচএস জানিয়েছে, প্রতিবারের মতো এবারও এই প্রস্তাবটি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হবে এবং এখনো এটি সচিব ক্রিস্টি নোয়েমের নজরে আসেনি। প্রতিবছরই এমন বহু টেলিভিশন প্রস্তাব ডিএইচএস -এর কাছে জমা পড়ে, যার মধ্যে থাকে বর্ডার অপারেশন, সাদা কলার অপরাধ নিয়ে ডকুমেন্টারিও। এখনও পর্যন্ত, এই প্রকল্প শুধুই একটি প্রস্তাব।

