শিলিগুড়ি, ৭ আগস্ট (হি. স.) : বুধবারও শহরজুড়ে টোটো আন্দোলনের জেরে বিক্ষিপ্ত উত্তেজনা ছড়াল শিলিগুড়ির কিছু জায়গায় । এদিন সকাল থেকে জায়গায় জায়গায় টোটো আটকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার অবরোধ করে পথেই বসে পড়েন নম্বরবিহীন টোটোর চালকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সবক্ষেত্রেই পুলিশ পৌঁছায় ঘটনাস্থলে। যদিও চালকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া কিছুই করেনি তারা। দু-একটি জায়গায় চালকদের ডেকে বৈঠক করে ক্ষোভের আগুনে ছাই চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র।বুধবার সকালে প্রথম ঝামেলার সূত্রপাত নিউ জলপাইগুড়ি রেল হাসপাতালের কাছে। ওই এলাকায় একটি টোটোস্ট্যান্ড রয়েছে। স্কুলের সময় যে টোটোগুলো পড়ুয়াদের নিয়ে যাচ্ছিল, সেখানে দঁাড় করিয়ে ছাত্রছাত্রীদের রীতিমতো টেনেহিঁচড়ে নামানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে এনজেপি ট্রাফিক গার্ড এবং থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এরপর শক্তিগড় স্কুল মাঠে জমায়েত হন কয়েকশো টোটোচালক। নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যান তঁারা। একটি দল চলে যায় জলপাই মোড়ের কাছে। সেখানে গিয়ে একই পদ্ধতিতে টোটো আটকাতে শুরু করেন। নামিয়ে দেওয়া যাত্রীদের। রামঘাটের দিকে যাওয়া সমস্ত নম্বরযুক্ত টোটোকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।প্রথমে জলপাই মোড় ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখান থেকে কয়েক জনকে নিয়ে ট্রাফিক গার্ডের অফিসে বৈঠক করে পুলিশ। ততক্ষণে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এই সময়ের মধ্যে কয়েকশো টোটোচালক এনজেপি থানার বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ওই টোটোচালকদের একাংশকে নিয়ে থানায় বৈঠকে বসা হয়। সেখানে এনজেপি ট্রাফিক গার্ডের আইসি এবং এনজেপি থানার ওসি ছিলেন।বৈঠক চলাকালীনই টোটোচালকদের একাংশ থানার সামনে টোটো আটকাতে শুরু করলে পুলিশ গিয়ে সরিয়ে দেয়। এরপর রেল হাসপাতাল মোড়ে ফিরে যান চালকরা। অভিযোগ, ওই চালকদের একাংশ রেল হাসপাতাল মোড়ে গিয়ে ফের হুজ্জতি শুরু করেন। প্রথমে স্কুল ফেরত পড়ুয়াদের টোটো থেকে নামানোর চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে এক-দুজন চালক ছাত্রীদের গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।এনজেপি থানার সাদা পোশাকের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকলকে এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। এসবের মাঝেই ফুলবাড়ির মোড়ের কাছে টোটোচালকরা জড়ো হয়ে রাস্তায় উঠে আসেন। জাতীয় সড়কে চলতে থাকা নম্বরযুক্ত টোটো আটকে যাত্রীদের নামিয়ে দেন নম্বরবিহীন টোটোচালকরা। ফুলবাড়ি ট্রাফিক গার্ড ও এনজেপি থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই টোটোচালকদের সরিয়ে দেওয়া হয় রাস্তা থেকে।
2024-08-07

