ফুল চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখলেন রাজেশ দাস

নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ২৪ মার্চ: সরকারী চাকরিমুখী না হয়ে থেকে একটু চেষ্টা করলে কৃষির সাহায্যে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তোলা যায়। তার জন্য একাগ্রতাটাই হলো মুখ্য। এমনি জানালেন উত্তর জেলার তথা পানিসাগরের একজন অন্যতম সফল ফুলচাষি রাজেশ দাস।

বর্তমানে উনার চাষে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির ফুল আসামের কাছাড় জেলা থেকে শুরু করে রাজধানী আগরতলা পর্যন্ত বাজারজাত হচ্ছে। তবে শুধু ফুল নয়। রাজেশ দাস ও রত্নদীপ দাস দুজনে মিলে প্রায় কুড়ি কানি জায়গাতে ফুলের সাথে সাথে নানারকম সবজি চাষের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৫০ হাজারেরও বেশি টাকা কামাই করছেন।

জানা গেছে, ২০১০ সালে তারা ফুলচাষ শুরু করেছেন। প্রথমে গাঁদা ফুলের চাষ শুরু হয়েছিল। সে সময় ফুলের চাহিদাও এমনটা ছিল না। তথাপি ফুলচাষে তার খানিক উৎসাহ দেখে ২০১২ সালে দপ্তর থেকে উনাকে একটি প্রটেক্টেড স্ট্রাকচার প্রদান করা হয়।

গাঁদা ফুল চাষের সাথে সাথে প্রটেক্টেড স্ট্রাকচারে জারবেরা ফুলের চাষ শুরু করেন তিনি। তাতে বিশাল সফলতা আসে। ফুলের চাহিদা বাড়ায় বর্তমানে চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধা সহ নানা ফুলের চাষ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ইদানীং বেশ কয়েক বছর যাবৎ লক্ষ্য করা গেছে উত্তর জেলা সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসামেও ফুলের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। তাই ফুলের বাজার এখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ায় বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী ফুলের জোগান দেওয়াটা তার একার পক্ষে মুশকিল হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

উনার সফলতায় উৎসাহিত হয়ে উনার আশেপাশে আরও অনেকেই বর্তমানে ফুলের চাষ শুরু করেছে। তাই উনি ফুলের বাজারে ফুলের চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে না পারলে আশপাশের ফুলচাষিদের কাছ থেকেও ফুল সংগ্রহ করে গ্রাহকদের কাছে পাঠান। প্রতিদিন উনার জমিতে উৎপাদিত গাঁদা, জারবেরা, বিভিন্ন রংয়ের চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধা, লেডিউলাস ফুল যাচ্ছে আগরতলায়, যাচ্ছে বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জ ও শিলচরে।