আগরতলা, ৮ জানুয়ারি : ব্রিটিশ আমলের আইনী ব্যবস্থাকে বদলে জনসাধারণের ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্যেই ভারতীয় আইনে পরিবর্তন এনেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এক্ষেত্রে হিট এন্ড রান, সংগঠিত অপরাধ কিংবা গণধোলাই সংক্রান্ত অপরাধে তদন্তক্রমে বিচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অযথা কাউকেই ঘাবড়ানোর প্রয়োজন নেই। আজ আগরতলায় রাজ্য অতিথিশালায় সাংবাদিক সন্মেলনে অভয় দিয়ে একথা বলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
প্রসঙ্গত, ভারতীয় আইনে কেন্দ্রীয় সরকার পরিবর্তন আনার পর থেকে ত্রিপুরা সহ সারা দেশ জুড়ে ট্রাক চালকরা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় দন্ডবিধি-১৮৬০ বদলে করেছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা পরিবর্তন করেছে ১৯৭৩ সালের সিআরপিসি-কে। এছাড়া ১৮৭২ সালের ইন্ডিয়ান এভিডেন্স এক্ট পরিবর্তিত হয়ে রূপ নিয়েছে ভারতীয় সাক্ষ্য বিল।
কেন্দ্রের এই সাহসী পদক্ষেপে ভীষণভাবে চটেছেন ট্রাক চালকরা। তাঁদের বদ্ধমূল ধারণা, ওই আইনের গুতোয় আর্থিক এবং সামাজিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। জরিমানার পাশাপাশি হাজতবাসের সাজা সইতে হবে তাঁদের। তাই, কেন্দ্রের এই নয়া আইনকে তাঁরা কালা কানুন বলে দেশব্যাপী প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। তাঁদের জোরালো দাবি, ওই আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
এ-বিষয়ে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব সকলকেই অভয় দিয়ে বলেন, জনসাধারণের সুরক্ষা কবচ হিসেবে ভারতীয় আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের আইন এতকাল ধরে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালি বানাতে অন্তরায় ছিল। হাজারো পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিভিন্ন রাজ্যের মতামত, বিশিষ্টজন, আইন বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সকল সাংসদদের মতামতের ভিত্তিতে ভারতীয় আইনে পরিবর্তন এনেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।
আইনের পক্ষে তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে অনেক মামলায় কাউকে গাড়ি চাপা দিয়ে খুন করা হয়েছে। কিন্তু, মামলা হিট এন্ড রানের হয়েছে। ফলে অপরাধীর সাজা হয়নি। তেমনি, সংগঠিত অপরাধের বিচারের জন্য কোন আইন ছিল না। ফলে, ওই ধরনের অপরাধ করে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যেতেন। একইভাবে গণধোলাই বা মব লিনচিঙ্গ-এর ঘটনায় বিচারের ক্ষেত্রে কোন ধারা লাগানো যেত না। কারণ ব্রিটিশ আমল থেকে চলমান ভারতীয় আইন ব্যবস্থায় ওই ধরনের অপরাধের সঠিক বিচারের উপায় ছিল না। ফলে, জনসাধারণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হতেন।
বিপ্লব দেবের কথায়, পরিবর্তিত ভারতীয় আইনে সমস্ত অপরাধের বিচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে, তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক ন্যায় বিচার হবে। তাঁর দাবি, সারা দেশে চন্ডিগড়ে প্রথম ডিজিটাল আইন পদ্ধতি চালু হবে। সারা বিশ্বের মধ্যে ভারত প্রথম দেশ হিসেবে ওই পদ্ধতি চালু করতে চলেছে। তাতে, মামলা রুজু হওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। সমস্ত কিছুর ভিডিও রেকর্ডিং হবে, যা আদালতেও একই সাথে জমা পরে যাবে। তিনি বলেন, ওই আইন প্রণয়নের কমিটির সদস্য থাকতে পেরে নিজেকে গর্বিত বোধ করছি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

