দুর্গাপুর, ২৬ নভেম্বর (হি.স.) : ‘রাজ্যের মন্ত্রীরা ডাক পেয়েছেন। দুজন জেলও খাটছেন। নতুন বছরে সিবিআইয়ের চা খাওয়ার নেমন্তন্য পাবেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার সাতসকালে দুর্গাপুরের গোপালমাঠে চা চক্রে এসে এমনই বিস্ফোরক দাবী করলেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। কেন্দ্রীয় এজেন্সীকে দলের এজেন্সী হিসাবে ব্যাবহার করছে বিজেপি বলে পাল্টা দাবী করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার।
প্রসঙ্গত, আগামী বছরই লোকসভা নির্বাচন। আর লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমেছে বঙ্গ বিজেপি। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের লাগামছাড়া দুর্নীতি, স্বজনপোষনকে হাতিয়ার করে আগামী ২৯ নভেম্বর কলকাতায় প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে বিজেপি। ওই সভাকে সামনে রেখে জেলায় জেলায় সভা মিটিং মিছিল করছে বিজেপি। রবিবার সকালে দুর্গাপুরের গোপালমাঠে বিজেপির চা-চক্র ছিল। তাতে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। এদিনের বক্তব্যে আগা গোড়া দিলীপ ঘোষের নিশনায় ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন,” মমতা ব্যানার্জী এমনই নেতা পাঠিয়েছেন, বাঙালিদের নাক কান কাটা গেছে। তবে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। রাজ্যে ১০০ দিনের টাকা, আয়লার টাকা, আবাস যোজনার টাকা সব চুরি করেছে। তাই রাজ্যের মন্ত্রীরা সিবিআই ইডির ডাক পেয়েছে। দুজন মন্ত্রী জেলও খাটছে। আর ওই দুই মন্ত্রী বলছে সবই দিদি জানে। আমরা বলছি না। দিদির ভাইয়েরা বলছে। জ্যোতিপ্রিয় বলছে সব দিদি জানে, পার্থবাবুও বলছে সব দিদি জানে। আবার কুণাল ঘোষ বলছে মক্ষিরানী। আমরা সেটা শুনে বলছি। তার ভাইয়েরা জানে দিদি কার কাছে কোথায় কত টাকা ভাগ পান।” তিনি আরও বলেন,” রাজ্যের মন্ত্রীরা ডাক পেয়েছেন। দুজন জেলও খাটছেন। নতুন বছরে সিবিআইয়ের চা খাওয়ার নেমন্তন্য পাবেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা বাংলার মানুষ দাবি করছে।”
এদিন তিনি তৃণমূল সংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” লোকসভার প্রশ্নত্তোর পর্বে সংশ্লিষ্ট অ্যাপে অনলাইনে প্রশ্ন করতে হয়। তার জন্য সব সাংসদদের পাসওয়ার্ড দেওয়া আছে। লোকসভায় প্রশ্ন না করলেও ওই অ্যাপে লিখিত করলে, সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীরা উত্তর দেন। আর মহুয়া মৈত্র ওই পাসওয়ার্ড দুবাইয়ের একটি এজেন্সীকে দিয়েছেন। ওই সংস্থাটি প্রশ্ন করেছেন। তার বিনিময়ে গিফট নিয়েছেন স্নো, লিপস্টিক, পাওডার। মহুয়া মৈত্র যে চশমা ব্যাবহার করছেন সেটা ২ লাখ টাকার, যে ব্যাগ ব্যাবহার করছেন ১ লাখ টাকার, ১ লাখ টাকার ঘড়ি। তার কোয়াটারও কোটি টাকা খরচ করে ডেকোরেশন করেছেন। এত টাকা আসছে কোথা থেকে? সবই গিফট পেয়েছেন। দেশের সুরক্ষাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাই তার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত হচ্ছে। হয়তো তার সাংসদ পদও খারিজ হবে।”
দিলীপ বাবু আরও বলেন,” নতুন বছরে আরও কিছু নেতা মন্ত্রীকে জেলের ভাত খেতে হবে।” এদিন তিনি জয়নগরে মুসলিম নেতা খুন হওয়া প্রসঙ্গে বলেন,” দুই নেতাই মুসলিম। দুই নেতাই তৃণমূলের।” তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন,” মুসলিমরা তৃণমূলের ভোট করবে। মুসলিমরা খুন হবে। মুসলিমরা কি খুন হওয়ার জন্য? মুসলিম বলে কি অশিক্ষিত হবে? ক্রিমিনাল হবে? তাদেরও এবার ভাবতে হবে।” তিনি বলেন,” মুসলিমদের জন্য যদি কেউ ভাবেন, সেটা মোদীজি। রেশন থেকে নানান সরকারি সুবিধা সব কেন্দ্র সরকারের। আর এখানের তৃণমূল নেতারা সব চুরি করছে।”
কেন্দ্রীয় এজেন্সীকে দলের এজেন্সী হিসাবে ব্যাবহার করছে বিজেপি বলে পাল্টা দাবী করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। তিনি আরও বলেন,”সিবিআই ইডি সরকারি এজেন্সী নয়, বিজেপির এজেন্সী।”



















