নয়াদিল্লি, ১৫ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আংশিক সময়ের অস্থায়ী উপাচার্যদের নিয়োগ নিয়ে আচার্যের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত। আপাতত হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। ফলে যে পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের শিক্ষা দফতর সরব হয়েছিল, তার স্পষ্ট নির্দেশ মিলল।
এই সঙ্গে, উপাচার্য নিয়োগের জন্য রাজ্য যে তিন সদস্যর কমিঠি আছে, তার বদলে পাঁচ সদস্যর সন্ধান কমিটির দাবি করছিল, তাতেও সায় দেয়নি সর্বোচ্চ আদালত। এ ব্যাপারে বিধানসভায় গৃহিত বিলে সই না করে রাজভবনে আটকে রাখায় মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী দুজনেই তোপ দেগেছেন রাজ্যপালকে। ফলে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
উপাচার্য নিয়োগে চলতি সঙ্কট কাটাতে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে সাহায্য করতেও বলল সুপ্রিম কোর্ট। এর পাশাপাশি মতভেদ দূরে সরিয়ে রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির দিকে নজর দেওয়ার জন্য রাজ্য এবং রাজ্যপাল, দু’পক্ষকেই উদ্যোগী হতে বলেছে সর্বোচ্চ আদালত।
রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগে আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। নবান্নের বক্তব্য ছিল, রাজ্যপাল যে পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ করেছেন, তা বৈধ নয়। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতর বা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই উপাচার্য নিয়োগে একক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন আচার্য।
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ামৃত্যু নিয়ে চাপানউতরের মধ্যে সেই প্রতিষ্ঠানে রাজ্যপালের অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করা নিয়ে রাজ্য-রাজভবন সংঘাত আরও বৃদ্ধি পায়। যদিও এর আগে কলকাতা হাই কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলায় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য। তারপরই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নবান্ন।
উত্তরবঙ্গ, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, রাজ্য প্রযুক্তি (ম্যাকাউট), কলকাতা, কল্যাণী, বর্ধমান, কাজী নজরুল, ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ রাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করেন আচার্য। ওই উপাচার্যদের বেতন বন্ধ করে দেয় শিক্ষা দফতর। রাজ্যের যুক্তি ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগে একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না আচার্য।
অভিযোগ ছিল, পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর নিয়ম মেনে ওই নিয়োগ করা হয়নি। ওই উপাচার্যদের নিয়োগ বাতিল চেয়ে হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন অধ্যাপক সনৎকুমার ঘোষ। গত ২৮ জুন হাই কোর্ট মামলা খারিজ করে আচার্যের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর দেয়।
গত ২১ অগস্ট এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, মামলার সব পক্ষকে নোটিস দিতে হবে। দু’সপ্তাহ পরে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
ওই দিন শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, এই সময়ের মধ্যে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে দু’পক্ষ আলোচনায় বসে সমাধানসূত্র বার করা যায় কি না দেখবে। সেই আলোচনা আর হয়নি। বরং দু’পক্ষ আরও যুযুধান হয়েছে।

