কলকাতা, ১৪ জুলাই (হি.স.) : হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে মাইক হাতে বিচার ব্যবস্থার একাংশকে নিশানা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপিরগুন্ডাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিয়ে রেখেছে আদালত । পুলিশ কী করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে? কলকাতা হাইকোর্টেরবিচারপতি রাজাশেখর মান্থার নাম করেই তৃণমূল নেতা বলেন, ওই বিচারপতি কেন বারবার শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর অনুগামীদের সুরক্ষাকবচ দিচ্ছেন। আমি চাইলে কি আমাকে সুরক্ষা কবচ দেবেন? ওই বিচারপতির কী বাধ্যবাধকতা আছে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার, তা আমি বুঝি না।
অভিষেকের সরাসরি অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিদের একাংশ দিল্লির কথায় চলছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে যেমন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ইডি, সিবিআইকে নেতাদের পিছনে লাগিয়ে রাখা হয়েছে, ঠিক তেমনি বিচার ব্যবস্থাকেও বিজেপি নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, এই সত্যি কথা বলার জন্য আমাকে যদি জেলে যেতে হয়, যদি আমার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়, তবুও আমি একশোবার সত্যি কথা বলে যাব। তৃণমূল নেতা প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারীকে কেন রক্ষাকবচ দিয়ে রাখা হয়েছে? তিনি বলেন, বিজেপির আশ্রিত সমাজবিরোধীদের যেভাবে হাইকোর্টের একাংশ মদত দিচ্ছে এবং নিরাপত্তা দিচ্ছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আদালতের জন্য পুলিশ এই সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আদালত নিত্য নতুন নির্দেশ দিয়ে পুলিশ প্রশাসনের হাত, পা বেঁধে দিচ্ছে। রাজাশেখর মান্থার মতো বিচারপতিদের জন্য পুরো বিচার ব্যবস্থা কলুষিত হচ্ছে। আমরা চাই, বিচার ব্যবস্থা নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করুক। যাদের জেলে থাকার কথা, তারা দিব্যি বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
পঞ্চায়েত ভোটে পরাজয়ের পরেও বিজেপি নন্দীগ্রামের কিছু কিছু জায়গায় লাগামছাড়া সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। বিজেপির আক্রমণে জখম ১৪ জন তৃণমূল নেতা ও কর্মী এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি। তাদের দেখতেই শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে আসেন অভিষেক। পরে তিনি হাসপাতাল চত্বরেই মাইক হাতে নিয়ে বলেন, ওই ১৪ জনের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তাঁরা বিজেপির ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের বিবরণ দেন আমার কাছে। সেখানে মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শিশুদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। এক পঞ্চায়েত সদস্যকে বলা হয়েছে, রাস্তায় কী করে বেরোস, দেখে নেব। যারা এই সব তাণ্ডব করেছে, এমন ২০ জনের নাম মুখ্যমন্ত্রীকে দেব। বেশ কিছু নাম উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, এদের সবাইকে হাইকোর্ট সুরক্ষা দিয়ে রেখেছে। তাঁর দাবি, নিহতদের মধ্যে ৭০ শতাংশই তৃণমূলের লোক। অভিষেক আরও দাবি করেন, পঞ্চায়েত ভোট শান্তিপূর্ণই হয়েছে। ৬১ হাজার বুথের মধ্যে মাত্র ৬০টি বুথে গোলমাল হয়েছে। বিরোধীদের প্ররোচনার জন্য।

