আগরতলা, ৭ জুলাই (হি.স.): অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বিধানসভায় অসাংবিধানিক শব্দ ব্যবহার করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী অধ্যক্ষের নিকট তাঁকে সম্পূর্ন অধিবেশন থেকে বরখাস্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবে অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন সুদীপ রায় বর্মণকে সম্পূর্ন বাজেট অধিবেশনের জন্য বরখাস্ত করেন।
এদিন বিধানসভা থেকে বেরিয়ে বহিস্কৃত সুদীপ রায় বর্মন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বিরোধী কন্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য এই হঠকারি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধ্যক্ষ। বিধানসভায় তাঁর কন্ঠরোধ করাই ট্রেজারী বেঞ্চের মূল উদ্দ্যেশ্য ছিল।
আজ বিধানসভা বাজেট অধিবেশনের প্রথমদিনে সিপিএম বিধায়ক সুদীপ সরকার ত্রিপুরা ট্রাইবেল অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল বা টিটিএডিসি এর হাতে অধিক ক্ষমতা ও অর্থ প্রদান করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে বেসরকারী প্রস্তাব আনেন। অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে এই প্রস্তাবের উপর আলোচনা শুরু হয়।
এতে কংগ্রেসের বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ অংশ নেন। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন তাঁকে আলোচনা শেষ করতে বলেন । তিনি সুদীপ রায় বর্মনকে বসতে অনুরোধ করেন। তখন সুদীপ রায় বর্মণ একটি গল্প বলার জন্য অধ্যক্ষ কাছে অনুমতি চেয়ে নেন। এবং তিনি অনুমতি পেয়ে গল্প বলতে শুরু করেন।
সেই গল্পে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন অসাংবিধানিক শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে ট্রেজারী বেঞ্চ থেকে অভিযোগ উঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পরিষদীয় দল নেতা মানিক সাহা অধ্যক্ষের নিকট বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ট্রেজারী বেঞ্চের সদস্যদের উদ্দ্যেশে অসাংবিধানিক শব্দ ব্যবহার করার অপরাধে তাঁকে সম্পূর্ন অধিবেশন থেকে বরখাস্ত করার জন্য প্রস্তাব আনেন। অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন সে প্রস্তাবে সম্মতি দিয়ে কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনকে সম্পূর্ন বাজেট অধিবেশনের জন্য বরখাস্ত করেন।
এদিন বিধানসভা থেকে বেরিয়ে বহিস্কৃত সুদীপ রায় বর্মন স্পীকারের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি বিরোধী কন্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য এই হঠকারিতা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধ্যক্ষ। বিধানসভায় তাঁর কন্ঠরোধ করাই ট্রেজারী বেঞ্চের ছিল মূল উদ্দ্যেশ্য। আজ কাউকে উদ্দ্যেশ্য করে বা ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেননি। আজ শুধু একটি গল্প বলেছিলেন। ব্যক্তিগত আক্রমণ না করা সত্ত্বেও তাঁর বহিস্কারের সিদ্ধান্ত অনৈতিক এবং অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছেন সুদীপ রায় বর্মণ।



















