তপন,৬ জুলাই (হি. স.) : ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতি আদিবাসী সমাজের। সেখানে আদিবাসী মহিলাদের দিয়ে দণ্ডি কাটানো লজ্জার বিষয়। বৃহস্পতিবার তপনে নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে এমনটাই বললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
এদিন তিনি বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস থাকলে মহিলাদের সম্মান থাকবে না। মহিলাদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যাবে।’ কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে সুকান্ত জানান, মোদী সরকার মানুষকে বিনামূল্য র্যাশন দিয়েছে। করোনার সময় ভ্যাকসিন দিয়েছে। কৃষকদের জন্য সারের ভর্তুকি দিয়েছে। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে সুকান্ত’র বক্তব্য, প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রী টাকা পাঠালেও তৃণমূল কাজ করছে না। তাই তাদের তাড়াতে হবে।
আদিবাসী ভোট ব্যাংক রক্ষা করতে বুধবার গোফানগরের ধিরুহাজিতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে পথসভা করে গিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র। দণ্ডি গ্রাম থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে ব্রাত্য বসু সভা করে গেলেও দণ্ডি গ্রামে যাননি। এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুঞ্জন ছড়ায়। তার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতে এবার দণ্ডি গ্রামে গিয়ে তৃণমূলের পালটা সভা করলেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। এদিন দণ্ডি গ্রামের পাশাপাশি সনকৈইল বাজারে সভা করেন তিনি। সভা শেষে তিনি এলাকায় রোড় শো করেন। এদিন সুকান্তর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরি, জেলা পরিষদের প্রার্থী প্রদীপ সরকার সহ আরও অনেকে।
অপরদিকে, গঙ্গারামপুর থানার ঠ্যাঙ্গাপাড়াতে রোড় শো এবং সভা করেন সুকান্ত। জনসভা থেকে সুকান্ত কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সাহসের সঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের মোকাবেলা করতে হবে। ভয় পেলে চলবে না। যেখানে তৃণমূল ছাপ্পা দিতে আসবে, সেখানে তাদের ধাপ্পা দিতে হবে। বাকিটা সুকান্ত মজুমদার দেখে নেবে। আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তৃণমূল কী করবে? কেস দেবে? সে তো ফ্রিতেই কেস দেয়। আপনাদের নির্বাচনে কেস দিলে সেই কেস লড়ার দায়িত্ব সুকান্ত মজুমদারের।’ তিনি বলেন, ‘আমরা অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট চাই। অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে মানুষ যদি আমাদের প্রত্যাখ্যান করে, আমরা তা মেনে নেব। তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করলে তৃণমূলকেও তা মেনে নিতে হবে। তবে ভোট লুট করার চেষ্টা হলে বিজেপি প্রতিরোধ করবে।’ নির্বাচন পরবর্তী কয়েকদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে থাকার আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে সুকান্ত বাবু বলেন, ‘আজ হাইকোর্ট মুখ্যমন্ত্রী ও তার পোষা ইলেকশন কমিশনকে কানমলা দিয়েছে।’ রাজ্যজুড়ে বিক্ষিপ্ত অশান্তির জেরে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে রাজ্যপাল ভর্ৎসনা করেছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে সুকান্তবাবু বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। রাজ্য নির্বাচন কমিশন ভর্ৎসনা পাওয়ার যোগ্য।’