লখনউ, ১৮ জুন (হি. স.) : গত তিন দিনে তীব্র তাপপ্রবাহের জেরে উত্তরপ্রদেশে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজমগড়ের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য ডিরেক্টর ডঃ বিপি তিওয়ারি জানান, হঠাৎ এত রোগী মৃত্যুর পিছনে কোনও রোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে লখনউ থেকে একটি বিশেষ দল আসছে। সাধারণত অত্য়াধিক গরম বা ঠাণ্ডা পড়লে শ্বাসকষ্ট, মধুমেহ ও রক্তচাপের রোগীদের অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলা হাসপাতাল সূত্রে খবর, এই ৯৮ জনের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের মৃতের সংখ্যা ৫৪ এবং বিহারে ৪৪। তাপপ্রবাহের কারণে অসুস্থ হয়ে ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন চারশোরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন বালিয়া জেলা হাসপাতালে। তাঁদের বেশির ভাগেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। বেশির ভাগ রোগীর মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, ব্রেন স্ট্রোক এবং ডায়েরিয়ার কারণে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ১৫ জুন মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। ১৬ জুন ২০ জনের এবং ১৭ জুন বিকেল ৪টে পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বালিয়া গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পেরিয়েছে। মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার বালিয়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৫ ডিগ্রি বেশি।
অন্যদিকে, বিহারের পরিস্থিতিও এক। এই রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহে। রাজ্যের ১৮টি জায়গায় চরম তাপপ্রবাহ চলছে। ৪৪ জনের মধ্যে শুধুমাত্র পটনাতেই মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। তাঁদের মধ্যে নালন্দা মেডিকেল কলেজে ১৯ জন এবং পটনা মেডিকেল কলেজে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। বাকি ন’জনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের অন্যান্য জেলা থেকে। রাজ্য আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, শনিবার ১১টি জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। পটনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শেখপুরায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছিল শনিবার। তাপপ্রবাহের কারণে আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত পটনা এবং রাজ্যের সমস্ত জেলায় স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।