বাসন্তী, ২৯ এপ্রিল (হি. স.) : সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন, সেই নির্বাচনের আগে ফের অস্ত্র কারখানার হদিস মিলল বাসন্তীতে। শুক্রবার রাতে বাসন্তীর রামচন্দ্রখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট কলাহাজরা গ্রামে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে সাতটি লং ব্যারেল বন্দুক ও অস্ত্র তৈরির প্রচুর সরঞ্জাম উদ্ধার করে বাসন্তী থানার পুলিশ ও বারুইপুর জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশান গ্রুপ। এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে বাসন্তী থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম মোতালেব পুরকাইত ওরফে হাসা ও জয়নাল মোল্লা। ধৃতদের শনিবার আলিপুর আদালতে তোলা হয়েছে। এদেরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ আরও তদন্ত করতে চাইছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, খড়ের ছাউনি দেওয়া মাটির বাড়িতে মহিলাদের জড়ির কাজের আড়ালে চলতো এই অস্ত্র কারবার। ২০১৯ সালেও অস্ত্র কারখানা উদ্ধার হয়েছিল মোতালেবের বাড়ি থেকে। সেবারও গ্রেফতার হয়েছিল সে। শুক্রবার রাতে বারুইপুর জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশান গ্রুপ ও বাসন্তী থানার পুলিশ সাদা পোশাকে খরিদ্দার সেজে কার্যত গিয়েছিল অস্ত্র কিনতে। সেখানে গিয়েই হাতে নাতে ধরে ফেলে মোতালেবকে। সেই সময় মোতালেবের বাড়ি থেকেই জয়নালকে গ্রেফতার করা হয়। বারুইপুর পুলিশ জেলার এস পি পুস্পা বলেন, “ বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের কাছে খবর আসছিল যে ওখানে অস্ত্র তৈরি হচ্ছে। সেই খবর অনুযায়ী আমাদের স্পেশাল অপারেশান গ্রুপ ও বাসন্তী থানার পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। সেখান থেকে সাতটি আগ্নেয়স্ত্র ও অস্ত্র তৈরির জিনিষপত্র উদ্ধার হয়েছে। ওই ব্যক্তি আগেও অস্ত্র তৈরির কাজ করতো। ২০১৯ সালে গ্রেফতার হয়েছিল। এখন কেন, কি কারণে, কার জন্য অস্ত্র তৈরি করছিল সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।” ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনায় আরও তদন্ত করতে চাইছে পুলিশ।
যদিও ধৃতের পরিবারের দাবি পুলিশ ইচ্ছে করেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে মোতালেবকে। তাঁর বাড়ি থেকে কিছু হাতুড়ি, পেরেক, বাঁটালি ছাড়া আর কিছুই উদ্ধার হয় নি। মোতালেবের স্ত্রী মামুদা পুরকাইত বলেন, “ মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে আমার স্বামীকে। বাড়িতে পুলিশ এসেছিল কিন্তু বাড়িতে কিছুই পায়নি। আগে একবার গ্রেফতার হয়েছিল বলে এবার মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হল। আমাদের বাড়ি থেকে কোন অস্ত্রই উদ্ধার হয়নি।”
প্রতিবেশী এক নাবালিকাকে কিডন্যাপ করার অভিযোগে সারিফুল লস্কর নামে এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার রাতে ক্যানিং থানার খাস কুমড়োখালি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সারিফুলকে। ধৃতকে শনিবার আলিপুর আদালতে তলা হয়েছে। দিন পনেরো আগে প্রতিবেশী এক নাবালিকাকে কিডন্যাপ করে ভিন রাজ্যে নিয়ে গিয়েছিল সারিফুল। এই ঘটনায় সেইসময় ওই নাবালিকার পরিবার ক্যানিং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই নাবালিকারও হদিস মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল জানিয়েছেন, এই ঘটনার পিছনে যারাই জড়িত রয়েছে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, “ ভোটের আগে এই ধরনের অস্ত্র মজুত করা, তৈরি করার পিছনে যারাই জড়িত রয়েছে তাঁদেরকে অবিলম্বে চিহ্নত করে গ্রেফতার করতে হবে।”

