অমিত শাহই চিন সীমান্তে নিশি যাপনকারী প্ৰথম কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্ৰী, বলেন মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্বআগামী ১১ মে কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্ৰী অসমের ৫০ হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে নিয়োগপত্ৰ বিতরণ করবেন

ডিব্রুগড় (অসম), ১১ এপ্রিল (হি.স.) : অমিত শাহের মতো বলিষ্ঠ নেতাই পারেন চিন সীমান্ত-ঘেঁষা এক প্রত্যন্ত গ্রামে নিশি যাপন করতে। অমিত শাহই প্ৰথম ভারতের কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্ৰী যিনি চিন সীমান্তে রাত কাটিয়েছেন। বক্তা অসমের মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। আজ মঙ্গলবার ডিব্ৰুগড়ের মানকাটা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত বিজেপির দলীয় সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্ৰী ড. শৰ্মা।

এদিন অরুণাচল প্রদেশ থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে ডিব্রুগড়ে আসেন কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্ৰী অমিত শাহ। ডিব্ৰুগড়ে প্রস্তাবিত উজান অসম জোনাল কাৰ্যালয়ের ভূমিপূজনের পর শিলান্যাস করেছেন অমিত শাহ। এর পর মানকাটা খেলার মাঠে কেন্দ্ৰীয় নেতার উপস্থিতিতে আয়োজিত গণ-সমাবেশে স্বাগত ভাষণ দেন মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন, অরুণাচল প্রদেশের চিন সীমান্তে কেবল রাত কাটানোই নয়, কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্ৰী শত্ৰু রাষ্ট্ৰকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যে যতই বড় দেশ হোক-না কেন, ভারত সূচাগ্র জমিও কাউকে ছেড়ে দেবে না।

ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৪ এপ্ৰিল প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদী গুয়াহাটি আসবেন। প্ৰধানমন্ত্ৰীর উপস্থিতিতে ১১ হাজারের বেশি বিহু নৃত্যশিল্পী অসমের ঐতিহ্য পরম্পরা কলা পরিবেশন করে বিশ্ব দরবারে নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। ওই দিনের সর্ববহৎ অনুষ্ঠানের জন্য জনসাধারণের আশীৰ্বাদ চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্ৰী।

এদিকে এবারের বাজেটে রাজ্য সরকারের তিনটি নতুন ঘোষণা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জনতাকে অবগত করেছেন। তিনি বলেন, রাজ্যে যতটি আত্মসহায়ক গোষ্ঠী আছে, এগুলির সব মহিলা গোটক আগে নগদ টাকা দেওয়া হত। কিন্তু এখন থেকে সব মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার করে টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে সরকার। পাশাপাশি এ বছর অরুণোদয় প্রকল্পের অর্থ মাসিক ১,৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বেকার যুবক-যুবতীদের দুই লক্ষ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার।

এছাড়া আরও এক বড় ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন, আগামী ১১ মে কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্ৰী অমিত শাহ গুয়াহাটিতে ফের আসবেন। ওইদিনের অনুষ্ঠানে ৫০ হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে নিয়োগপত্ৰ বিতরণ করবেন তিনি। বিজেপির হাতকে আরও মজবুত করার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপিকে শক্তিশালী করলেই অসম এগিয়ে যাবে। আর অসম এগিয়ে গেলে ভারতও এগিয়ে যাবে।

অসমে এ পর্যন্ত স্থাপিত দলীয় কাৰ্যালয় সম্পর্কে অবগত করে বলেন, রাজ্যে বিজেপির জেলাস্তরে ২২টি কার্যালয়ের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। আরও সাতটি কাৰ্যালয়ের নিৰ্মাণকাজ চলছে। এগুলো সম্পূৰ্ণ জেলা কাৰ্যালয়ের নিৰ্মাণ শেষ হবে। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্ৰী ড. শৰ্মা বলেন, আসন্ন লোকসভা নিৰ্বাচনের আগে ২০০টি মণ্ডল কাৰ্যালয়ও নিৰ্মাণ করা বে।

আজ কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্ৰী অমিত শাহের হাত দিয়ে ডিব্ৰুগড়ে বিজেপির উজান অসমের জোনাল কাৰ্যালয়ের নিৰ্মাণকাজ আগামী ১৮ মাসের মধ্যে সম্পূৰ্ণ হয়ে যাবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্ৰী।

আজকের অনুষ্ঠানে কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্ৰী অমিত শাহ ছাড়া ছিলেন কেন্দ্ৰীয় মন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সেনোয়াল, কেন্দ্ৰীয় প্রতিমন্ত্ৰী রামেশ্বৰ তেলি, দলের প্রদেশ সভাপতি ভবেশ কলিতা, কয়েকজন সাংসদ, বিধায়ক, দলের বিভিন্ন পদমর্যাদার নেতা-কার্যকর্তা এবং স্থানীয় বহুজন।