১৬ দফা দাবিতে ”করিমগঞ্জ চলো” সমাবেশের ডাক সিপিআই (এম) করিমগঞ্জ জেলা কমিটির

করিমগঞ্জ (অসম), ১৬ জানুয়ারি (হি.স.) : জেলার জনজীবনের ১৬ দফা মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে আগামী ৩১শে জানুয়ারি ”করিমগঞ্জ চলো” সমাবেশের ডাক দিয়েছে সি পি আই (এম) করিমগঞ্জ জেলা কমিটি। বিজেপি শাসনে সব অংশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। দ্রব্যমূল্য চরমে। খাদ্যদ্রব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, ঔষধপত্র, পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম প্রতিদিন পালা করে বাড়ছে।

মানুষ প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, নিত্যব্যবহার্য জিনিস কিনতে পারছেন না। কেন্দ্রীয় সরকার রেশনে খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যতঃ তুলে দেবার পথে এগুচ্ছে। ঔষধপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র, ডাক্তার, নার্সের ভয়াবহ অভাব। এগুলিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই জনবিক্ষোভ সামনে আসছে। গ্রামে এবং শহরে কাজ নেই। প্রতিদিন বেকার ছেলেরা কাজের উদ্দেশ্যে বহির্রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে।
একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার এনরেগায় ব্যয়বরাদ্দ কমাচ্ছে। গ্রামীণ শ্রম লুট সহজ করতে এনরেগা তুলে দিতে চাইছে। অন্যদিকে সরকারের দোসরদের হাতে এনরেগার কাজে চলছে দেদার দুর্নীতি, দলবাজি, ঠিকাদারি, ভুয়ো মাষ্টার রোলের খেলা। গ্রামীণ রাস্তাঘাটের অবস্থা শোচনীয়। গত বন্যার পর গ্রামীণ রাস্তাঘাট, স্লুইচ গেট, নদীবাঁধ ইত্যাদির কোন সংস্কার হয় নি। প্রকৃত বন্যাক্রান্ত মানুষ ক্ষতিপূরণ পাননি,রাজ্য সরকার মুখে কৃষকের ধান কেনার কথা ঘোষনা করেছেন, কিন্তু জেলায় একটি মাত্র ধান ক্রয়কেন্দ্র এবং সেইসঙ্গে ধান কেনার আরোপিত শর্তগুলি কৃষকদের জন্য সুখকর নয়, তাছাড়া ভাগচাষিদের ধান বিক্রয়ের অধিকার নেই। একই সঙ্গে চলছে বনাঞ্চল সহ খাস জমিতে বাস করা গরীব কৃষক উচ্ছেদ।

উগ্র সাম্প্রদায়িক শ্লোগানের আড়ালে চলছে উচ্ছেদ।গোটা উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিস্তির্ণ বনাঞ্চল এবং দীর্ঘ দিন থেকে দরিদ্র পরিবারের বসবাস করা খাস ও সিলিং বহির্ভূত জমি বৃহৎ ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া। চলছে ভাষা ও জাতিগত বৈষম্য, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী নিয়োগে বরাকের প্রার্থীদের সঙ্গে চোখে পড়ার মত বৈষম্য হয়েছে যা নজিরবিহীন। এনআরসি প্রক্রিয়ায় সরকারি সিলমোহর দেওয়ার পরিবর্তে গোটা প্রক্রিয়াকে বানচাল করে লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। নানা কৌশলে উপত্যকায় রাষ্ট্রীয় মদতে জনগণের মধ্যে ভাগাভাগির রাজনীতি আমদানি করা হচ্ছে নিজেদের অসৎ স্বার্থ পূরণের জন্য।
অসম সরকার রাজ্যের রন্ধন প্রকল্পকে অক্ষয় ফাউন্ডেশনের হাতে তুলে দিতে চাইছে। দেশের অন্যরাজ্যে রন্ধন কর্মীরা অনেক বেশি মজুরি পেলেও রাজ্যের রন্ধন কর্মীরা মাসে মাত্র পনরোশো টাকা হিসাবে বছরে দশ মাসের মজুরি পান। তাও নিয়মিত নয়। মজুরির জন্য তাদের প্রায়ই রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হয়। কর্মচারীদের আন্দোলনের চাপে দেশের একাধিক রাজ্য সরকার নূতন পেনশনের বদলে পূরানো পেনশন প্রকল্প ফিরিয়ে আনলেও আসাম রাজ্য সরকার কর্মচারী স্বার্থবিরোধী নূতন পেনশনকেই বহাল রেখেছেন। ছাঁটাই,লক আউট, মজুরি ছাঁটাই, রাষ্ট্রীয় সম্পদের দেদার বেসরকারীকণের বিরুদ্ধে যখন শ্রমিক বিক্ষোভ বাড়ছে তখনই কেন্দ্রীয় সরকার চারটি শ্রমকোড প্রবর্তন করে শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নিতে উদ্যোগী হয়েছে। এসবই তারা করছে বৃহৎ দেশি-বিদেশি পূঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষা করতে।

জনপ্রতিরোধ মোকাবিলায় শাসক দল বিজেপি এবং সংঘ পরিবার দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতিতে নেমেছে। তাই এই সমূহ বিপদ থেকে বাঁচতে সমস্ত রকম রীতি নীতি ভেঙে,বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার সৌজন্য না দেখিয়ে নিজেদের অনুকুলে নির্বানচক্রের ফলাফল আনতে সাম্প্রদায়িক লক্ষে নির্বাচনচক্রের জন বিন্যাস নিজেদের সুবিধামত গঠনের উদ্দেশ্যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলি ভাঙ্গার লক্ষ্যে রাতের অন্ধকারে জিলা ভাঙ্গার মতো দু:সাহসিক পদক্ষেপ নিতে ইতস্তত করছে না, এতে রাজ্য ও জনগণের স্বার্থ ও অসুবিধা তাদের দলের রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে গৌণ।
এই পরিস্থিতিতে ১৬ দফা দাবির ভিত্তিতে আগামী ৩১ জানুয়ারি, মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় করিমগঞ্জ নীলমণি স্কুলের খেলার মাঠে জনসমাবেশের ডাক দিয়েছে সিপিআই (এম) করিমগঞ্জ জেলা কমিটি। এই সমাবেশকে সফল করার জন্য জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও উপস্থিতি আশা করছে দলের জেলা কমিটি।