নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর (আইএএনএস): রাজধানী দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় কংগ্রেস নেতাদের বিক্ষোভ চলাকালীন এক কাশ্মীরি যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ওই যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীনগরের বাসিন্দা ফাহিম নাজির নিজেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুরাগী বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর ছবি হাতে নিয়ে তিনি বিক্ষোভস্থলে পৌঁছন। এরপর তাঁকে মারধর করেন কংগ্রেস কর্মীরা। তবে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফাহিম নাজির বলেন, “১৯৯৮ সালে প্রথমবার রাজীব গান্ধী ইভিএম নিয়ে এসেছিলেন। আপনাদের কাছে তার ফুটেজ রয়েছে। আমি রাহুল গান্ধীকে গালিগালাজ করিনি, কিন্তু আমাকে ভীষণভাবে মারধর করা হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, ভারতকে নেপাল বা বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি মনে করেন। সেই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
ফাহিমের বক্তব্য, “রাহুল গান্ধীকে প্রশ্ন করা উচিত। এটা বাক্স্বাধীনতা।”
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থনে স্লোগান দেওয়ার পর একদল বিক্ষোভকারী ওই যুবককে ঘিরে ধরে মারধর করেন। যদিও বিক্ষোভকারীদের একাংশের পাল্টা অভিযোগ, তিনি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে মৌখিকভাবে অপমান করেছিলেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে ধাক্কা দেওয়া, টেনে নিয়ে যাওয়া এবং বারবার আঘাত করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি সমাজমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করে কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে “নৈরাজ্যবাদী মানসিকতা” প্রদর্শনের অভিযোগ তোলেন।
বিজেপির আর এক মুখপাত্র সাজিদ ইউসুফ শাহও ঘটনার সমালোচনা করেছেন। ভিন্নমত প্রকাশ এবং বাক্স্বাধীনতার প্রতি কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অসংগতি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার প্রতিবাদে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। সেই বিক্ষোভ চলাকালীনই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।