নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৪ অক্টোবর: আগরতলায় রক্তদানের মাধ্যমে মানবসেবার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো। রবিবার বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ তফসিলি জাতি মোর্চার উদ্যোগে এবং ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অঙ্গ হিসেবে আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। শিবিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
রক্তদান শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা, ত্রিপুরা প্রদেশ তফসিলি জাতি মোর্চার সম্পাদক বাপ্পি দাস, সদর শহর জেলার সভাপতি অসীম ভট্টাচার্য, বিধায়িকা মিনা রানী সরকার-সহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা বলেন, রক্তদানের মতো মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না। একজন মানুষের দান করা রক্ত অন্য একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে। তাই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রক্তের প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নানা ধরনের নতুন আবিষ্কার ও প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা রক্তের কোনও কার্যকর বিকল্প আবিষ্কার করতে পারেননি। ফলে রক্তের চাহিদা পূরণের একমাত্র কার্যকর পথ হলো স্বেচ্ছায় রক্তদান।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, বিভিন্ন জটিল রোগ এবং অন্যান্য চিকিৎসাজনিত কারণে প্রতিদিন বহু মানুষের রক্তের প্রয়োজন হয়। সেই সময় হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে পর্যাপ্ত রক্তের মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি। স্বেচ্ছায় রক্তদান করলে সেই প্রয়োজন অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রক্তদান শুধু একজন মানুষের প্রাণ বাঁচায় না, এর মাধ্যমে সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে। তাই দল-মত নির্বিশেষে সুস্থ ও সক্ষম সকল নাগরিককে নিয়মিত রক্তদানের মতো মানবিক কাজে অংশগ্রহণ করা উচিত।
‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এই রক্তদান শিবিরের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মধ্যে রক্তদানের বিষয়ে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়। মানবসেবার এই ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানে।



















