কলকাতা, ২০ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের হুগলি গ্রামীণ জেলা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা তারকেশ্বর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডুকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে।
দুর্নীতি, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে উত্তম কুণ্ডুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে বৃহস্পতিবারই হুগলির একটি জেলা আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হুগলি গ্রামীণ জেলা পুলিশের একটি দল বুধবার গভীর রাতে কলকাতায় পৌঁছে একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই উত্তম কুণ্ডুকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের আগের মেয়াদে কলকাতার ব্যবসায়ী রাজেশ আগরওয়ালের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করেছিলেন উত্তম কুণ্ডু। এছাড়াও নির্মীয়মাণ একটি ফ্ল্যাট জোর করে দখল করা এবং বেআইনি জমি দখলের সঙ্গেও তাঁর যোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজেশ আগরওয়ালের অভিযোগের ভিত্তিতে হুগলি গ্রামীণ জেলা পুলিশ উত্তম কুণ্ডুর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। এরপর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (আইএনটিটিইউসি)-এর সভাপতি ছিলেন উত্তম কুণ্ডু। সেই সময় সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস দুই শিবিরে বিভক্ত হলে উত্তম কুণ্ডু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন। পরে তাঁকে আরামবাগ সাংগঠনিক জেলায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সভাপতি করা হয়। তবে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিলেও উত্তম কুণ্ডু প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তাঁর সর্বোচ্চ নেত্রী হিসেবে মনে করেন।



















